জিডিপি-র হিসাব নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে নিশানা করেছিল বিরোধীরা। প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গের দাবি ঘিরে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। এ বার সেই বিতর্কে আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার বা আইএমএফের বক্তব্যে স্বস্তিতে কেন্দ্র। ভারতের সংশোধিত মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) নির্ধারণের পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ফলে জিডিপি-র হিসাব নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।
চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি বৃদ্ধির হার গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশ করে কেন্দ্র। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ভারতের অর্থনীতি ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পরেই হিসাবের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ। তাঁর দাবি, দেশের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার মাত্র ২.৬ শতাংশ। সরকারি পরিসংখ্যানে বৃদ্ধির হার ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয় জোর রাজনৈতিক চাপানউতর। বিশেষ করে জিডিপি নির্ধারণের ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা। সেই বিতর্কের মধ্যেই মুখ খুলেছেন আইএমএফের এশিয়া-প্যাসিফিক দফতরের ডিরেক্টর কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। তাঁর বক্তব্য, জিডিপি গণনার জন্য ভারত যে সংশোধিত পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে এনেছিলেন গর্গ। একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, আগে ২০১১-১২ অর্থবর্ষকে ভিত্তিবর্ষ ধরে জিডিপির হিসাব করা হত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই ভিত্তিবর্ষ বদলে ২০২২-২৩ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনের ফলে জিডিপি বৃদ্ধির হার বাস্তবের তুলনায় বেশি দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকার গর্গের অভিযোগ মানতে নারাজ। জিডিপি গণনায় কারচুপির অভিযোগকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন পরিসংখ্যান সচিব সৌরভ গর্গ। কেন্দ্রের বক্তব্য, অর্থনীতির প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরতেই পরিসংখ্যান নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে জিডিপি গণনার ভিত্তিবর্ষ বদলানো হয়েছে বলেও মনে করিয়ে দিয়েছে সরকার।
এ বার সেই বিতর্কের মধ্যেই আইএমএফের বক্তব্যকে কেন্দ্রের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে খনিজ তেলের মূল্যবৃদ্ধির মতো চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। পরিষেবা ক্ষেত্র ও রফতানিতেও প্রত্যাশার তুলনায় ইতিবাচক ফল মিলেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সব মিলিয়ে, জিডিপি-র হিসাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও ভারতের সংশোধিত গণনাপদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে আইএমএফের বক্তব্য কেন্দ্রের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে জিডিপি বৃদ্ধির প্রকৃত হার নিয়ে প্রাক্তন অর্থসচিবের অভিযোগ এবং সরকারি পরিসংখ্যানের মধ্যে যে ফারাক তুলে ধরা হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখনই থামার সম্ভাবনা কম।




