রামধনু রঙের রাস্তা ঘিরে বিতর্ক, বাইক দুর্ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই তৎপর প্রশাসন। চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে বসানো হল ‘স্পিড ব্রেকার ক্যাট আই’। অন্য দিকে, গড়িয়াহাট সেতুতেও রামধনু রঙের রাস্তার উপরিভাগ ঘষে খসখসে করার কাজ শুরু হয়েছে। আসানসোলেও রঙিন রাস্তার উপর ঘষাঘষি চালিয়েছে প্রশাসন। তবে রাস্তার রং তুলে ফেলা হচ্ছে না, বরং দুর্ঘটনা এড়াতে ঘর্ষণ বাড়ানোর জন্যই এই পদক্ষেপ বলে দাবি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের।
দুর্গাপুজোর আগে শহরকে সাজিয়ে তুলতে কলকাতার একাধিক রাস্তায় রামধনু রং ও আলপনা আঁকা হয়েছিল। কিন্তু সেই সৌন্দর্যায়ন ঘিরেই বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বৃষ্টির মধ্যে চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে পর পর কয়েকটি বাইক পিছলে পড়ার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশ্ন ওঠে, রাস্তার রং কি দুর্ঘটনার কারণ? সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উড়ালপুলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিল প্রশাসন।
চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে পাঁচ রঙে রাঙানো রাস্তার উপর প্রতি ১০ মিটার অন্তর বসানো হয়েছে সারি সারি ‘স্পিড ব্রেকার ক্যাট আই’। গাড়ি ও বাইকের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই ব্যবস্থা। বুধবারই পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছিলেন, রাস্তা রাঙানোর কাজে ‘অ্যান্টি স্কিড’ রং ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রঙের কারণে চালকদের চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। অসুবিধা হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন মন্ত্রী।
এ দিন সকালে গড়িয়াহাট সেতুতেও রাস্তার রং ঘষে খসখসে করার ছবি সামনে আসে। কালীঘাটের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, রাস্তা পরিষ্কারের বিশেষ গাড়ির নীচে থাকা যন্ত্র দিয়ে রঙিন রাস্তার উপর ঘষাঘষি চলছে। কুণালের দাবি, চিংড়িঘাটার দুর্ঘটনার পর গড়িয়াহাট সেতুর রং তোলার কাজ শুরু হয়েছে। যদিও পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে দাবি, রং তুলে ফেলা হচ্ছে না। রাস্তার উপরিতল খসখসে করে ঘর্ষণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে অবশ্য এখনও নিশ্চিত নয় প্রশাসন। অগ্নিমিত্রা বলেন, “গতকাল যে দু’টি মোটর সাইকেল স্কিড করে যেতে দেখলাম, সেটা কী কারণে হয়েছে, তা আমরা বলতে পারছি না। স্কিড তো অনেক কারণেই হতে পারে।” তাঁর দাবি, রঙের কারণেই বাইক পিছলে গিয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এখনও নেই।
মন্ত্রী জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই বিষয়টি খতিয়ে দেখেন কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়ার, দমকলের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার। তার পরেই চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে ক্যাট আই বসানো এবং গড়িয়াহাট সেতুর উপরিভাগ ঘষে খসখসে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অগ্নিমিত্রার কথায়, রাস্তার উপরিভাগে ঘর্ষণ বাড়াতেই এই পদক্ষেপ।
একই ছবি পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলেও। শহিদ ভগৎ সিংহ মোড়ের কাছে রামধনু রঙে সাজানো হয়েছিল রাস্তা। বুধবার রাত থেকেই সেখানে রঙিন অংশ ঘষে ফেলার কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, ঘষাঘষির জেরে রাস্তার রামধনু রঙের বেশির ভাগ অংশই মুছে গিয়েছে। সব মিলিয়ে, উৎসবের আগে শহর সাজানোর উদ্যোগ ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট না হলেও, ঝুঁকি এড়াতে রঙিন রাস্তার উপরিভাগে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে প্রশাসন।




