• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 13 October, 2026

ইউপিআইতে মাসুল চালু পিছিয়ে দিল কেন্দ্র, উৎসবের মরসুমে স্বস্তি ব্যবসায়ীদের

ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনে মাসুল চালুর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখল কেন্দ্রীয় সরকার।

ইউপিআইতে মাসুল চালু পিছিয়ে দিল কেন্দ্র, উৎসবের মরসুমে স্বস্তি ব্যবসায়ীদের

File Photo

ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনে মাসুল চালুর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৫ অক্টোবর থেকে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, সেই সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে দীপাবলির আগে খুচরো ব্যবসায়ীদের উপর নতুন আর্থিক বোঝা চাপছে না। তবে নতুন করে কবে থেকে এই মাসুল চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ইউপিআই নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এনপিসিআই জানায়, উৎসবের মরসুমের কথা মাথায় রেখেই মাসুল চালুর সময় পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউপিআই ও পরিষেবা স্টিয়ারিং কমিটি এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে। দীপাবলির পরে নতুন সময়সীমা ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নিয়ে এখনও কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ হারে মাসুল ধার্য হওয়ার কথা ছিল। এই ঘোষণার পরেই দেশ জুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। মাসুলের খরচ ক্রেতাদের বহন করতে হবে, নাকি ব্যবসায়ীদের—তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিভ্রান্তি। পরে এনপিসিআই স্পষ্ট করে জানায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে এই বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হবে না। মাসুলের দায়ভার বহন করতে হবে ব্যবসায়ীদেরই।

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কে ভারতের খুচরো বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব বলে মনে করা হয়। দুর্গাপুজো, দীপাবলি-সহ একাধিক উৎসবকে কেন্দ্র করে এই সময়ে কেনাকাটা বাড়ে। ফলে এই সময়েই ইউপিআই লেনদেনে মাসুল চালু হলে ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়তে পারত। সেই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ায় আপাতত স্বস্তি মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এমডিআর চালুর ঘোষণার পর একাধিক বণিক সংগঠনও আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য, নতুন মাসুলের ফলে ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়বে। পাশাপাশি পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির উপরেও চাপ তৈরি হতে পারে। ইউপিআই ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ও ব্যবস্থারও কিছু পরিবর্তন দরকার। ফলে মাসুল চালুর সময় পিছিয়ে দেওয়ার পিছনে উৎসবের মরসুমের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির বিষয়টিও ভূমিকা নিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এমডিআর চালুর নতুন তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র ও এনপিসিআই কী সিদ্ধান্ত জানায়, এখন সেদিকেই নজর ব্যবসায়ী মহলের।