• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 13 October, 2026

জেলেনস্কির থেকে শান্তিচুক্তিতে বেশি আগ্রহী পুতিন, দাবি ট্রাম্পের, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়ছে সংশয়

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেস্কি বলেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে তিনি ট্রাম্পের প্রস্তাবের জবাব হিসেবেই দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে মস্কোর অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।

জেলেনস্কির থেকে শান্তিচুক্তিতে বেশি আগ্রহী পুতিন, দাবি ট্রাম্পের, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়ছে সংশয়

Photo: Statesman

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির থেকে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছতে বেশি আগ্রহী। এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার নতুন করে হামলার ঘটনায় জ্বালানি পরিকাঠামোয় আক্রমণ বন্ধের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে ওহাইও যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষই জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। যদিও দুই দেশের সরকারের তরফে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও নিশ্চিত ঘোষণা করা হয়নি।

এক সাংবাদিক মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি তাই তারা রাজি হয়েছে।’ পুতিন এখনও শান্তি আলোচনায় আগ্রহী কি না, তা জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, জেলেনস্কির তুলনায় পুতিনই চুক্তিতে বেশি আগ্রহী।’ তাঁর দাবি, দুই নেতাই সমঝোতা চান। কিন্তু কীভাবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে, তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাবে ওয়াশিংটন।

যুদ্ধে প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প দুই নেতাকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, চলতি মাসে যুদ্ধে ৩২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানের পক্ষে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির দাবির মধ্যেই সোমবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি ২৫ তলা আবাসনে রুশ হামলায় অন্তত ২ জন নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় আধিকারিকেরা।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া এখনও সাধারণ মানুষের আবাসন ও পরিকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, মার্কিন প্রস্তাবের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা চালায়নি। কিন্তু মস্কো ইউক্রেনের পরিকাঠামোয় আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেস্কি বলেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে তিনি ট্রাম্পের প্রস্তাবের জবাব হিসেবেই দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে মস্কোর অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।

রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেন, রুশ তেলজাত পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে। তাঁর দাবি, জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই তাঁর নীতির উদ্দেশ্য।

এদিকে রাশিয়ার সামরিক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ১২ অক্টোবরের ঘোষণায় ১ হাজার ৫৬৯ জন ব্যক্তি ও সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮২৬টি রুশ সংস্থা ও ৭৪৩ জন শীর্ষ নির্বাহী রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: পানামায় ফের ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, শতাধিক আফটারশকে বাড়ছে আতঙ্ক

শান্তি আলোচনার উদ্যোগ, ইউক্রেনে অব্যাহত হামলা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা, সব মিলিয়ে সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।