মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটে হইচই ফেলে দিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএল থেকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি— ব্যাট হাতে একের পর এক নজরকাড়া পারফরম্যান্সে ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জিতে নিয়েছে এই তরুণ ওপেনার। কিন্তু এখনই বৈভবকে পরবর্তী মহাতারকা বলে দাগিয়ে দিতে রাজি নন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন অধিনায়ক কপিল দেব। তাঁর মতে, প্রতিভা থাকলেই দীর্ঘ দিন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ স্তরে সাফল্য ধরে রাখা যায় না। উদাহরণ হিসাবে তিনি টেনে এনেছেন এক সময়ের প্রতিভাবান ভারতীয় ব্যাটার বিনোদ কাম্বলির কথা।
বৈভবের প্রতিভা নিয়ে কোনও সংশয় নেই কপিলের। কিন্তু এত কম বয়সে পাওয়া সাফল্য দেখে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনই বড় কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। এক সর্বভারতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কপিল বলেন, ‘এখনই অনেক কিছু বলা হয়ে যাচ্ছে। ওর প্রতিভা আছে কি? হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। কিন্তু ক্রিকেটে এমন অনেক খেলোয়াড় এসেছে, যাদের প্রচুর প্রতিভা ছিল। তার পরেও তারা হারিয়ে গিয়েছে। বিনোদ কাম্বলির দিকে তাকান। ওঁর ক্ষেত্রে আমরা কী বলব?’
কাম্বলির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। টেস্টে তাঁর ব্যাটিং গড় ৫৪.২০। অল্প বয়সেই পরপর দু’টি ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই দুরন্ত সূচনার পর দীর্ঘ দিন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি কাম্বলি। চোট-আঘাত এবং মাঠের বাইরের নানা সমস্যাও তাঁর কেরিয়ারে প্রভাব ফেলেছিল। সেই কারণেই বৈভবকে নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসে গা ভাসানোর আগে সতর্ক থাকতে বলছেন কপিল।
বৈভবকে এখনই বড় তারকার তকমা না দিয়ে আরও কয়েক বছর সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ১৯৮৩-র বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক। তাঁর মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন ক্রিকেটারের জীবন যাপন, চিন্তাভাবনা এবং মানসিকতায় পরিবর্তন আসে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সে কী ভাবে মানিয়ে নিচ্ছে, সেটাই দীর্ঘমেয়াদে তার কেরিয়ার নির্ধারণ করতে পারে।
কপিলের কথায়, ‘বৈভবের বয়স মাত্র ১৫ বছর। ওকে আরও তিন বছর সময় দিন, তার পর কথা বলা যাবে। ওর জীবনযাত্রা বদলাবে, চিন্তাভাবনাও বদলাবে। তার পর বোঝা যাবে, আগামী দু’বছরে ও নিজেকে কোথায় নিয়ে যায়। আমার কাছে ওর পারফরম্যান্সের চেয়েও এই বিষয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’।
অর্থাৎ, কয়েকটি দুরন্ত ইনিংস বা রেকর্ডের ভিত্তিতে বৈভবের ভবিষ্যৎ বিচার করতে চান না ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর মতে, আসল পরীক্ষা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং খ্যাতির চাপ সামলানো।
বৈভব অবশ্য ইতিমধ্যেই নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০২৫-এর আইপিএলে নজর কাড়ার পর ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রেকর্ড গড়া ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এ বারের আইপিএলে ৭৭৬ রান করে জিতেছেন অরেঞ্জ ক্যাপও।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও শুরুটা ভাল হয়েছে বৈভবের। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেকের পর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সিরিজে ১৫১ রান করে সিরিজের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। আটটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২৪৬ রান। গড় ৩০.৭৫, স্ট্রাইক রেট ১৮৬.৩৬। রয়েছে দু’টি অর্ধশতরানও। বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ভারতীয় দলেও রয়েছেন তিনি।
বৈভবের উত্থান যে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু কপিলের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—প্রতিভা সাফল্যের দরজা খুলে দিতে পারে, তবে দীর্ঘ কেরিয়ার গড়তে প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, পরিণত মানসিকতা এবং সঠিক জীবনযাপন। বৈভব সেই পরীক্ষায় কতটা সফল হন, তা দেখার জন্যই আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে চান ১৯৮৩-র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।




