• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 9 October, 2026

তসলিমা নাসরিনকে ‘ঊমা সম্মান’, কলকাতা বইমেলায় আসার ইচ্ছাও প্রকাশ নির্বাসিত লেখিকার

কলকাতার মহাজাতি সদনে ‘ঊমা সম্মান’ পেলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ‘লে রিদম’-এর উদ্যোগে

তসলিমা নাসরিনকে ‘ঊমা সম্মান’, কলকাতা বইমেলায় আসার ইচ্ছাও প্রকাশ নির্বাসিত লেখিকার

স্রোতের বিপরীতে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গিয়েছিলেন অনেক দূরে। সমাজকে দিয়েছিলেন এক নতুন পথের দিশা। শিখিয়েছিলেন নতুন ভাবে সব কিছু দেখতে। সেই সাহস ও লড়াই করার মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়ে এ বার ‘ঊমা সম্মান’ পেলেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

তবে কেবল তসলিমাই নন, এই সম্মান পেয়েছেন আরও একাধিক কৃতী মহিলা। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর কলকাতার মহাজাতি সদনে ‘লে রিদম’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিকল ভাঙার গল্প’ অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘ঊমা সম্মান ২০২৬’। পাশাপাশি কয়েক জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে দেওয়া হয় ‘রিনি মুখোপাধ্যায় লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’।

দীর্ঘদিন ধরে নির্বাসিত জীবন কাটানো তসলিমা এ দিন নিজের লেখা একাধিক কবিতা পাঠ করেন। ‘মায়ের কাছেও চিঠি’সহ তাঁর কবিতায় উঠে আসে নারীর বেদনা, প্রেম ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। তাঁর লেখা এবং অন্যান্য কবিতা অবলম্বনে গান পরিবেশন করেন সোমদত্তা বন্দ্যোপাধ্যায়, মৌসুমী হোসেন ও পিয়ালী হালদার। গানে সুর দিয়েছেন মৌসুমী। দেবী বন্দনার নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন মৈত্রেয়ী পাহাড়ী।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও নিজের ভাল লাগার কথা জানান তসলিমা। তাঁর কথায়, “নতুন সরকারের আমলে ভাল আছে রাজ্য। অনেকেই আমাকে বলেছেন। আমারও ভাল লাগছে। এক সরকার তাড়িয়েছিল। এক সরকার আসতে দেয়নি। আরেক সরকার আমাকে নিয়ে এল। অনেক পার্থক্য।”

একই সঙ্গে কলকাতা বইমেলায় আসা, বাংলায় থাকা এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।

তসলিমার বক্তব্য, “নারীর বেদনা, প্রেম আর মুক্তির গান নিয়েই আজকের এই অনুষ্ঠান।” তাঁর কবিতা ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা—নারীর লড়াই, আত্মপ্রকাশ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা—বিশেষ ভাবে উঠে আসে।
কারা পেলেন ‘ঊমা সম্মান’?

এ বারের সম্মানপ্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী ও বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেত্রী ও বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাঝি, পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ, জাদুকরী মানেকা সরকার, অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, সমাজকর্মী মহুয়া ধর, মায়া বাগ এবং লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্মানিত হয়েছেন বিশিষ্ট নৃত্যপরিচালক মৈত্রেয়ী পাহাড়ীও।

দ্বিতীয় পর্বের তালিকায় রয়েছেন সংস্কার ভারতীর সর্বভারতীয় সম্পাদক নীলাঞ্জনা রায়, সমাজকর্মী অর্পিতা সরকার, সোমা ঘোষ, চলচ্চিত্র নির্মাতা সুচন্দ্রা এক্স বানিয়া, চিকিৎসক অঞ্জুলা বিনায়কিয়া, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী ও নেপথ্যগায়িকা সোমদত্তা বন্দ্যোপাধ্যায়, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত টেরাকোটা শিল্পী দোলন কুণ্ডু মণ্ডল, নৃত্যশিল্পী রিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়, আইনজীবী মৌসুমী দেব এবং শিক্ষিকা পিউ পাল।

‘রিনি মুখোপাধ্যায় লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’
প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী রিনি মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে দেওয়া এই পুরস্কার পেয়েছেন পি সি চন্দ্র গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণকুমার চন্দ্র, জাদুকর পি সি সরকার জুনিয়র, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও সমাজসংস্কারক অলকানন্দা রায় এবং রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। প্রয়াত রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী বিভা সেনগুপ্তকেও মরণোত্তর সম্মান জানানো হয়। তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মান তুলে দেওয়া হয়।

এই বিভাগে দ্বিতীয় পর্বে সম্মানিত হয়েছেন প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পদার্থবিদ্যার গবেষক শ্যামল বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, স্বামী কৃপাকরানন্দ মহারাজ, জাদুকর পি সি সরকার জুনিয়র, বিধায়ক রত্না দেবনাথ এবং পি সি চন্দ্র গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণকুমার চন্দ্র ও জয়েন্ট ডিরেক্টর শুভ্র চন্দ্র। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাপস রায় বলেন, “আজকের এই অনুষ্ঠানে এসে ভাল লাগছে। মায়েদের, দিদিদের পেলাম। সকলেই জীবন্ত দুর্গা।”
সংস্কৃতি ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ‘লে রিদম’
দিল্লিভিত্তিক অলাভজনক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘লে রিদম’ ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতির প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করে।
সংস্থার সূচনা করেছিলেন প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী রিনি মুখোপাধ্যায়। তাঁর মৃত্যুর পরেও সেই ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাজীব মুখোপাধ্যায়।
নারীর অধিকার, স্বাধীনতা ও আত্মপ্রকাশের বার্তা নিয়ে আয়োজিত ‘শিকল ভাঙার গল্প’ অনুষ্ঠানে তাই তসলিমা নাসরিনের সম্মানপ্রাপ্তি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। আর সেই মঞ্চ থেকেই কলকাতা বইমেলায় আসা এবং বাংলায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এলেন নির্বাসিত লেখিকা।