ব্যাট হাতে তিনি ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম ভরসা। এ বার কি উইকেটের পিছনেও দেখা যাবে যশস্বী জয়সওয়ালকে? মুম্বইয়ের হয়ে রঞ্জি ট্রফির প্রস্তুতির মধ্যেই উইকেটকিপিং অনুশীলন শুরু করেছেন ভারতীয় ওপেনার। শুধু ব্যাটিং নয়, ক্রিকেটার হিসাবে নিজের দক্ষতার পরিধি আরও বাড়াতে চান তিনি। মুম্বইয়ের অধিনায়ক সিদ্ধেশ লাডের কথায়, যশস্বীর লক্ষ্য মুম্বই কিংবা ভারতীয় দলের হয়ে উইকেটকিপিং করা। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন তিনি।
যশস্বীকে উইকেটকিপিং অনুশীলন করতে দেখা গিয়েছে মুম্বইয়ের প্রস্তুতি শিবিরে। সমাজমাধ্যমে নিজেও সেই অনুশীলনের ভিডিও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। মুম্বইয়ের একটি প্রস্তুতি ম্যাচে প্রায় ১০ ওভার উইকেটকিপিংও করেছেন ২৪ বছরের এই ক্রিকেটার।
লাড বলেছেন, ‘যশস্বী উইকেটকিপিং শুরু করার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করছে। ওর কাছ থেকেই শুনেছি, মুম্বই কিংবা ভারতীয় দলের হয়ে উইকেটকিপিং করতে চায় ও। আমার ধারণা, সেটাই ওর লক্ষ্য। তবে বিষয়টি নিয়ে ওর পরিকল্পনা ঠিক কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়’।
মুম্বই অধিনায়কের আরও বক্তব্য, ‘ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নিজের খেলায় আরও কিছু যোগ করতে চায় যশস্বী। সেই কারণেই উইকেটকিপিং অনুশীলন শুরু করেছে। নিয়মিত অনুশীলন করলে ধীরে ধীরে এই কাজে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে’।
যশস্বীকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, উইকেটকিপিং শেখার পিছনে কি জাতীয় দলে নিজের জায়গা আরও মজবুত করার ভাবনা রয়েছে? ভারতীয় দলে ওপেনার হিসাবে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। তবে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়ের দক্ষতা অর্জন করতে পারলে ভবিষ্যতে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
যেমনটা হয়েছিল রাহুল দ্রাবিড়ের ক্ষেত্রে। ১৯৯৯-এ নয়ন মোঙ্গিয়া চোট পেয়ে যাওয়ার পর উইকেট কিপিং করতে হয়েছিল রাহুলকে। সে বছর বিশ্বকাপেও কিপিং করেছিলেন রাহুল। সঙ্গে তো তাঁর দুর্দান্ত ব্যটিং দলের সম্পদ ছিলই। ২০০২-এ ভারতীয় দলের অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ঠিক করেন রাহুলকে দিয়ে কিপিং করাবেন। তা হলে দলে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যানও নিতে পারবেন। ফলে ২০০৩ বিশ্বকাপে রাহুলকে নিয়মিত কিপিং করতে দেখা যায়। যশস্বী জয়সওয়াল সম্ভবত সেই পথেই পা বাড়াতে চাইছেন। কিপিংটা রপ্ত করে নিলে তাঁর উপযোগিতা বাড়বে এবং ভারতীয় দলে তাঁর জায়গা পাকা হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। তাই এই পখই বেছে নিয়েছেন।
অবশ্য এখনই তাঁকে নিয়মিত উইকেটকিপার হিসাবে খেলানোর কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। আপাতত এটি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা। এর আগে ভারতীয় দলের নেটে লেগস্পিনও করেছেন যশস্বী। কয়েকটি ম্যাচে বলও করেছেন। অর্থাৎ ব্যাটিংয়ের বাইরে অন্য ভূমিকাতেও নিজেকে তৈরি রাখতে চান তিনি।
রবিবার, ১১ অক্টোবর ওয়াংখেড়েতে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচ খেলবে মুম্বই। সেই ম্যাচের দলে রয়েছেন যশস্বী। তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব থাকায় পরের ম্যাচগুলি থেকে তাঁকে পাওয়া যাবে না বলে জানা গিয়েছে।
মুম্বইয়ের অধিনায়ক লাড মনে করেন, যশস্বীর উপস্থিতি শুধু ব্যাটিংয়ের শক্তি বাড়াবে না, তরুণ ক্রিকেটারদেরও উপকৃত করবে। তাঁর কথায়, ‘যশস্বীর মতো ক্রিকেটার দলে থাকলে শুধু পারফরম্যান্সের দিক থেকেই লাভ হয় না, ওর অভিজ্ঞতাও দলকে সমৃদ্ধ করে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছে ও। ওর সঙ্গে সাজঘর ভাগ করে নিতে পারলে তরুণ ক্রিকেটারেরাও শিখতে পারবে’।
যশস্বীর উইকেটকিপিংয়ের পরিকল্পনা কত দূর এগোয়, তা এখনই বলা কঠিন। তবে ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরি করার পর এ বার নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টায় নেমেছেন তিনি। ব্যাট হাতে রান করার পাশাপাশি উইকেটের পিছনেও কি ভবিষ্যতে দেখা যাবে যশস্বীকে? সেই উত্তর সময়ই জানে।




