জেলে থাকতে হয়েছিল এক মাসেরও বেশি। ক্রিকেট ভবিষ্যৎ ডুবতে বসেছিল কারাগারের অন্ধকারে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ক্রিকেটে ফিরে আসার সুযোগ পেলেন অভিযুক্ত অভিষেক পোড়েল। ডাক পেলেন রঞ্জি ট্রফির দলে। দিল্লির বিরুদ্ধে মরসুমের প্রথম রঞ্জি ম্যাচে বাংলা দলে রাখা হল এই উইকেটকিপার-ব্যাটারকে। বুধবার এই দল ঘোষণা করে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা সিএবি। এই দলের অধিনায়ক হিসেবে বহাল রয়েছেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ। দলে রয়েছেন মহম্মদ শামি এবং ভারত এ দলে ডাক পাওয়া আকাশ দীপ, মুকেশ কুমারও।
ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল অভিষেক পোড়েলকে। দমদম থানার অধীন ইমামি সিটি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় অগাস্ট মাসে।তিনি এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস এবং ধর্ষণ করেছেন এমনই অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এমনকী, তরুণীকে আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করেছেন, এই নালিশও জানায় সেই তরুণী। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯, ৩১১, ৩১৮, ৬৬/৭২ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মোট ন’টি ধারায় মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার ভিত্তিতে মগড়া থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযোগকারিনী তরুণী অভিযোগ করেন, তিনি কর্ণাটকের চিকিৎসক পড়ুয়া। তাঁর সঙ্গে অভিষেকের তিন বছরের সম্পর্ক ছিল। অভিষেকের সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণেও গিয়েছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে বেঁকে বসেন অভিষেক। অশান্তি করতেন তাঁর সঙ্গে। এর পরে অভিষেক আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে হুমকি দিতেন পড়ুয়া চিকিৎসককে। এমনকী, সেই সমস্ত ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেলও করতেন।অভিষেক যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, তিনি ভালো খেলছেন বলে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মামলা আদালতে উঠলে তাঁকে প্রথমে পুলিশি হেফাজতে, পরে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। ৩৬ দিন জেলে কাটানোর পর অবশেষে ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে জামিন দেয় চুঁচুড়া আদালত। এর মধ্যে বাংলার রনজি ট্রফির প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হয়। সেখানে জায়গা হয়নি পোড়েলের। তাঁর ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠে যায়।
কিন্তু জামিন পাওয়ার পরই তিনি বাংলা শিবিরে যোগ দেন এবং অবশেষে প্রথম ম্যাচে বাংলা স্কোয়াডে ডাকও পেলেন। আগামী ১১ তারিখ থেকে কল্যাণীতে এই ম্যাচে প্রতিদ্বন্দী দিল্লি। শুধু অভিষেক পোড়েল নয়, এই দলে রয়েছে ধর্ষণের অভিযুক্ত আরেক ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফও। তাঁর দাদা মহম্মদ শামিকেও রাখা হয়েছে বাংলা দলে।
বাংলা স্কোয়াড: অভিমন্যু ঈশ্বরণ (অধি), সুদীপ কুমার ঘরামি (সহ অধি), সুদীপ চ্যাটার্জি, অভিষেক পোড়েল (উকি), শাকির হাবিব গান্ধী, অঙ্কুর পাল, সুমন্ত গুপ্ত, অঙ্কিত শুক্লা, শুভম চ্যাটার্জি, মহম্মদ শামি, আকাশ দীপ, মুকেশ কুমার, সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল, প্রদীপ্ত প্রামাণিক, আমির গণি, মহম্মদ কাইফ, সৌম্যদীপ মন্ডল।




