• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 7 October, 2026

বিমানবন্দরে বাঁকরা মসজিদ মামলায় কোন অন্তর্বর্তী নিদের্শ দিল না হাইকোর্ট

রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, এটি কোনও ধর্মীয় স্থান ভেঙে দেওয়া বা ধর্মান্তরের মামলা নয়। জমিটি বহু বছর আগেই আইন মেনে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য,  এটি কোনও হেরিটেজ স্থাপনাও নয়। মূল প্রশ্ন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা।

বিমানবন্দরে বাঁকরা মসজিদ মামলায় কোন অন্তর্বর্তী নিদের্শ দিল না হাইকোর্ট

Photo: Social Media

কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে বাঁকরা মসজিদ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি হল। মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে আদালতে সওয়াল করল এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া, সিআইএসএফ এবং রাজ্য সরকার। তিন পক্ষেরই বক্তব্য, বিষয়টির সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। বুধবার কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৯ অক্টোবর।

এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার পক্ষের আইনজীবী সৌমেন্দ্র নাথ মুখোপাধ্যায় জানান, বাঁকরা এলাকার ১৩৭৩ নম্বর প্লট-সহ একাধিক জমি ১৯৬১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রানওয়ের প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, অধিগৃহীত জমির উপর মসজিদের কোনও পৃথক আইনি অধিকার থাকতে পারে না।

শুনানিতে বিচারপতি জানতে চান, কার কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। জবাবে এএআইয়ের আইনজীবী জানান, গ্রামবাসীদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। আইন মেনেই সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ১৩৫০ থেকে ১৪০১ নম্বর প্লট পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের আওতায় ছিল বলেও আদালতে জানানো হয়।

মসজিদ নিয়ে সওয়াল করতে গিয়ে এএআইয়ের আইনজীবী বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার থাকলেও তার অর্থ এই নয় যে বিমানবন্দরের মতো উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় নির্দিষ্ট কোনও ধর্মীয় স্থান রাখার বিশেষ অধিকার তৈরি হবে। তাঁর দাবি, ইসলাম ধর্ম পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোনও মসজিদই অপরিহার্য নয়। একই নীতি অন্য ধর্মীয় স্থানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়েও আদালতে একাধিক তথ্য তুলে ধরে এএআই। আইনজীবীর দাবি, বাঁকরা মসজিদকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক হয়েছে। ২০ মে এবং ২৩ মে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে বৈঠক হয়। ৮ জুলাইও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

এএআইয়ের বক্তব্য, ওই এলাকায় পাখি এবং শেয়ালের আনাগোনা রয়েছে। যা বিমানের নিরাপদ ওঠানামার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্যও ওই জমির প্রয়োজন রয়েছে। সিআইএফের হয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে মসজিদ বা অন্য কোনও ধর্মীয় স্থানের জন্য আলাদা আইনি সুবিধা নেই।

তাঁর দাবি, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী মসজিদটি রানওয়ে এলাকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সিআইএফয়ের বক্তব্য, বিমানবন্দরের শহরমুখী দিকে জেসোরে মসজিদের জন্য বিকল্প জমি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু মসজিদ কর্তৃপক্ষ সেখানে স্থানান্তরে রাজি হয়নি।

মসজিদে যাতায়াতের পথ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিআইএসএফের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, গেট নম্বর ৭ দিয়ে মসজিদে যাতায়াতের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ওই পথে কারা প্রবেশ করছেন, তা সব সময় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কোনও ব্যক্তি এক হাতে পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করলেও তাঁর সঙ্গে অন্য কোনও বিপজ্জনক বস্তু রয়েছে কি না, তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও আদালতের সামনে রাখা হয়।

রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, এটি কোনও ধর্মীয় স্থান ভেঙে দেওয়া বা ধর্মান্তরের মামলা নয়। জমিটি বহু বছর আগেই আইন মেনে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য,  এটি কোনও হেরিটেজ স্থাপনাও নয়। মূল প্রশ্ন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা।

আরও পড়ুন: এন্টালিতে ক্যাবের ভিতরে পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার চালকের দেহ, ঘনাচ্ছে রহস্য

রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মসজিদটির অবস্থানের কারণে একটি নিয়ন্ত্রিত ও উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা সমস্যার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। সওয়ালের সময় ৯/১১-এর মতো হামলার প্রসঙ্গও তোলা হয়। তিন পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বুধবার মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি হাইকোর্ট। আগামী ৯ অক্টোবর ফের এই মামলার শুনানি হবে।