দীর্ঘ সময় পর ফের রেপো রেট বাড়ানোর পথে হাঁটল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। শেষবার ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বাড়িয়ে ৬.৫০ শতাংশ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। তার পর থেকে দীর্ঘ সময় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালে পরপর চার দফায় মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমানোর পর এ বার ফের নীতি বদলের পথে হাঁটল আরবিআই।
আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্র জানান, দেশের অর্থনীতি এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধিও বাড়ছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির চাপ, আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন তৈরি করেছে।
মূল্যবৃদ্ধি, তেলের দাম ও দুর্বল টাকা
রেপো রেট বাড়ানোর অন্যতম বড় কারণ মূল্যবৃদ্ধির বাড়তি চাপ। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের তুলনায় টাকার দর দুর্বল হয়ে পড়াও অর্থনীতির উপর চাপ বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই আরবিআইয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এর আগে ২০২৫ সালে মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত থাকায় সুদের হার কমানোর পথে হেঁটেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। জুন ২০২৫-এ এক ধাক্কায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়ে ৫.৫০ শতাংশ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরও দফায় সুদ কমানোর ফলে রেপো রেট নেমে আসে ৫.২৫ শতাংশে। দীর্ঘ সময় সেই হারেই স্থির থাকার পর এ বার ফের সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
বাড়তে পারে ঋণের কিস্তি
রেপো রেট বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ব্যাঙ্কের ঋণের সুদে। বিশেষ করে ভাসমান সুদের হারে নেওয়া গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ কিংবা ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার বাড়লে গ্রাহকদের মাসিক কিস্তির বোঝাও বাড়তে পারে। তবে রেপো রেট বৃদ্ধির কতটা প্রভাব গ্রাহকদের উপর পড়বে এবং কত দ্রুত তা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের ঋণনীতির উপর।
তবে শুধু ঋণগ্রহীতারাই নন, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে সঞ্চয়কারীদের উপরও। সুদের হার বাড়লে ব্যাঙ্কগুলির আমানতের সুদ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে এক দিকে ঋণের খরচ বাড়তে পারে, অন্য দিকে সঞ্চয়ের উপর বাড়তে পারে সুদের আয়।




