• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 6 October, 2026

জেড প্লাস প্রত্যাহারের ১৯ দিনের মাথায় হামলা! অভিষেকের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা আদালতের

রাজ্যের বক্তব্য শুনেই সময়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। রাজ্য পুলিশের বৈঠক যদি ১২ মে হয়ে থাকে, তাহলে তার দু’দিন আগেই অর্থাৎ ১০ মে কীভাবে নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

জেড প্লাস প্রত্যাহারের ১৯ দিনের মাথায় হামলা! অভিষেকের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা আদালতের

MP Abhishek Banerjee File Case Supreme Court Photo-SNS

রাজ্যের পালাবদলের পর গত ১০ মে আচমকাই জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহার। তার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় হামলার অভিযোগ। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমানো নিয়ে এবার আদালতের প্রশ্নের মুখে রাজ্য। ২০১৩ সালে ওয়াই, ২০১৪ সালে ওয়াই প্লাস, ২০১৫ সালে জেড এবং ২০১৬ সালে জেড প্লাস নিরাপত্তা পেয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু তার পরে ২০২৬ সালের ১০ মে নির্বাচনের পর তাঁর নিরাপত্তা সরাসরি এক্স ক্যাটেগরিতে নামিয়ে আনা হয় বলে অভিযোগ। নিরাপত্তা কমানোর আগে তাঁকে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকী কারণও জানানো হয়নি বলে দাবি আবেদনকারীর।

জেড প্লাস থেকে সরাসরি এক্স ক্যাটেগরি। নিরাপত্তায় রইলেন মাত্র দু’জন পুলিশকর্মী। আর এরপরেই সোনারপুরে হামলার অভিযোগ। আদালতে আবেদনকারীর আইনজীবী গোপাল শংকর নারায়ণের দাবি, আগে থেকেই হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও মাত্র দু’জন কলকাতা পুলিশের অফিসার ছাড়া আর কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবীর সওয়াল, থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট না করে এবং প্রোটেক্টিকে না জানিয়ে নিরাপত্তা কমানো যায় না। শুধু সোনারপুর নয়, পরবর্তী সময়ে আরও চারটি পৃথক হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে আদালতে দাবি করা হয়। বিমানবন্দরেও হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ। এমনকী এক হামলাকারীর হাতে রিভলভার ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার ও ক্যামাক স্ট্রিটে সাংসদের অফিসেও হামলার অভিযোগ ওঠে।

আবেদনকারীর আইনজীবী নিরাপত্তা সংক্রান্ত পঙ্কজ দত্ত মামলার রায়ের উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছ থেকে রিপোর্ট তলবের আবেদন জানান। এর পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জেড প্লাস নিরাপত্তা পুনর্বহালেরও আর্জি জানানো হয়। কেন্দ্রের পক্ষে এএসজি -এর বক্তব্য, নিরাপত্তার থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশই সেই মূল্যায়ন করে। বাংলার বাইরে আবেদনকারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা পেলেও বাংলায় তাঁকে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা দেওয়া হত বলে আদালতে জানানো হয়।

কেন্দ্রের বক্তব্য, যাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তিনি নিজে থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট করতে পারেন না। বাংলায় নিরাপত্তার হুমকি কতটা তা রাজ্য পুলিশকেই মূল্যায়ন করতে হবে। আবেদনকারীর শারীরিক আঘাতের দাবির প্রসঙ্গেও কেন্দ্রের তরফে বেলভিউ হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোর্টের উল্লেখ করা হয়। রাজ্যের আইনজীবীর দাবি, রাজ্য পুলিশই থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট করেছিল। সেই মূল্যায়নে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কোনও হুমকি পাওয়া যায়নি। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নিরাপত্তা কমানো হয়েছিল বলে আদালতে জানায় রাজ্য।

পরবর্তীতে বিষয়টি ফের পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত রিপোর্টও তৈরি করা হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়। রাজ্যের বক্তব্য শুনেই সময়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। রাজ্য পুলিশের বৈঠক যদি ১২ মে হয়ে থাকে, তাহলে তার দু’দিন আগেই অর্থাৎ ১০ মে কীভাবে নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আরও পড়ুন: মহালয়ায় মেগা প্রস্তুতি-দুর্গাপুজোয় পুলিশি কড়া নজরদারি, হেভিওয়েট পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন কলকাতার পুলিশ কমিশনারের

শুধু তাই নয়, পরবর্তী বৈঠক ২৯ মে হলে তারও আগে ১০ মে কীসের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কমানো হয়েছিল, সেই প্রশ্নও সামনে আসে। চারটি হামলার ঘটনা আদালতের সামনে আসার পর বিচারপতির আরও কড়া প্রশ্ন, ‘চারটি ঘটনা ইতিমধ্যেই ঘটে গিয়েছে। এর দায় কে নেবে?’ সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর নিরাপত্তা প্রত্যাহার এবং থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৩ অক্টোবর।