সমুদ্রপথে আমেরিকায় মাদক পাচার রুখতে ফের সামরিক অভিযান চালাল ওয়াশিংটন। রবিবার ক্যারিবিয়ান সাগরে মাদক পাচারে জড়িত সন্দেহে একটি দ্রুতগামী জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। অভিযানে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদী’ বা মাদক-সন্ত্রাসবাদী বলে দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড বা সাউথকম-এর বিবৃতি অনুযায়ী, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মাদক পাচারের জন্য পরিচিত এমন পথে একটি দ্রুতগামী জাহাজ চলাচল করছিল। গোপন সূত্রে পাওয়া ‘নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্যের’ ভিত্তিতে জাহাজটি মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়। এরপরই সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সাউথকম জানিয়েছে, অভিযানে জাহাজটি ধ্বংস হয়েছে। চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
অভিযানের ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে মার্কিন বাহিনী। তাতে দেখা যাচ্ছে, সমুদ্রের উপর চলন্ত জাহাজটিতে আচমকা বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায় জলযানটিতে। তবে জাহাজটিতে মাদক থাকার প্রমাণ হিসেবে যে গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই মাদক পাচার রুখতে ক্যারিবিয়ান সাগর এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন সরকারের দাবি, এখনও পর্যন্ত ৭০টি পৃথক অভিযানে অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের সকলকেই মাদক পাচার বা মাদক-সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে এই অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কও বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মার্কিন বাহিনীর এই হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সমুদ্রে মানুষকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের কয়েকজন বিশেষজ্ঞও এই অভিযানের সমালোচনা করেছেন।
আরও পড়ুন: বারমুডা থেকে বোস্টনগামী মেডিক্যাল বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার, নিখোঁজ ৬
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকায় মাদকের প্রবাহ বন্ধ করতে এবং মাদক সেবনের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতেই এই সামরিক অভিযান প্রয়োজন। তাঁর দাবি, মাদক পাচারকারী চক্রগুলির বিরুদ্ধে আমেরিকা এখন কার্যত সামরিক লড়াইয়ে নেমেছে। অর্থাৎ, তিনি মাদক চক্রগুলিকে শুধু অপরাধী গোষ্ঠী হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করার মতো সংঘাত চলছে বলেও দাবি করছেন।




