• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 5 October, 2026

উড়ান ২.০ প্রকল্পে জুড়ল পশ্চিমবঙ্গ, বড় বিমান পরিষেবা চেয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে আর্জি মুখ্যমন্ত্রীর

তাছাড়া ওই সব এয়ারপোর্টে ন্যারো বডি এয়ারক্রাফট দিয়ে বিমানে যাতায়াত করতে যাতে পারে সেই ভাবনা নেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গেই

উড়ান ২.০ প্রকল্পে জুড়ল পশ্চিমবঙ্গ, বড় বিমান পরিষেবা চেয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে আর্জি মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari Central Minister Rammohan Naidu Photo-SNS

পশ্চিমবঙ্গে বিমান পরিষেবা বৃদ্ধি হোক তা চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তাই উড়ান ২.০ প্রকল্পে জুড়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ। এই প্রকল্পে রাজ্যের চারটি বিমানবন্দর জুড়বে। আগামী ১০ বছরে ১০০টি নতুন বিমানবন্দর হবে। যার মধ্যে চারটি এই রাজ্যেই হবে বলে জানিয়েছেন অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী। বাগডোগরা বিমানবন্দরেও নতুন টার্মিনাল তৈরি করা হবে। কলকাতায় দ্বিতীয় এয়ারপোর্ট তৈরি করা নিয়েও সুখবর শোনান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডাকে যুক্ত করার মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। এমনকী দমদম বিমানবন্দরের উপর চাপ কমাতে নদিয়ার কল্যাণীতে ২,০০০ একর জমিতে নয়াদিল্লির নয়ডার ধাঁচে একটি নতুন আন্তর্জাতিক গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার নবান্নে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডুর উপস্থিতিতে এই কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বাগডোগরায় নতুন টার্মিনাল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। কলকাতা-সহ একাধিক বিমানবন্দর রয়েছে। সেগুলির পরিকাঠামো আরও ভাল করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কলকাতার মতো শহরে আরও একটি এয়ারপোর্ট তৈরির ভাবনার কথা জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু। মুম্বাইয়ের মতো, কলকাতাতেও দ্বিতীয় এয়ারপোর্ট তৈরি প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। আর মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তৃণমূল আমলের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অনীহা এবং জমি জটিলতা কাটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যে রাজ্য এবার দ্রুত প্রগতির পথে হাঁটছে। কলকাতা থেকে সরাসরি ব্রিটেন এবং ইউরোপের প্রধান শহরগুলিতে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে একটি চিঠি তুলে দেন তিনি।

কলকাতা থেকে আন্তর্জাতিক উড়ানের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ভাবনা আছে। বিশেষ করে ইউরোপের উড়ানের সংখ্যা বৃদ্ধি করার ভাবনা আছে। তার জন্য এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডালের কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরকে আরও শক্তিশালী করে নয়াদিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং গুয়াহাটির মতো মহানগরের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করার প্রস্তাব দেন। অযোধ্যার রাম মন্দির, তিরুপতি, রাজস্থানের খাতু শ্যাম এবং অমৃতসরের মতো বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্রে সরাসরি এবং আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা চালুর জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তাছাড়া ওই সব এয়ারপোর্টে ন্যারো বডি এয়ারক্রাফট দিয়ে বিমানে যাতায়াত করতে যাতে পারে সেই ভাবনা নেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গেই বেহালা ফ্লাইং ক্লাবের কথাও শোনা গেল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মুখে। ওই পরিকাঠামোর উপর ভিত্তি করে ফ্লাইট ট্রেনিং নিয়ে আরও উন্নত কাজের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছেন মন্ত্রী। আর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অসহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘আগের অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কলকাতার কাছে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের পর্যাপ্ত জমির জন্য চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকার সঙ্গে সঙ্গে তা খারিজ করে দেয়। সেনাবাহিনীর ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও কলাইকুণ্ডায় ৩৭ একর এবং হাসিমারায় মাত্র ২৫ একর জমি না দেওয়ার জেরে উড়ান প্রকল্প এতদিন আটকে ছিল। কল্যাণীতে প্রস্তাবিত বিকল্প বিমানবন্দরের জন্য মাটি পরীক্ষা এবং জমি সংক্রান্ত প্রাথমিক কাজ মুখ্যসচিব হরবিন্দর সিং ও ভূমি সচিব সুরেন্দ্র গুপ্তার তদারকিতে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।’