• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 5 October, 2026

সল্টলেকের রাস্তায় গ্যাস জ্বালিয়ে রা্ন্না করা যাবে না, নিষেধাজ্ঞা কলকাতা হাইকোর্টের

এই সিদ্ধান্ত পছন্দ হয়নি ব্যবসায়ীদের। তাই ওই কমিটির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল স্থানীয় হকার-ব্যবসায়ীদের

সল্টলেকের রাস্তায় গ্যাস জ্বালিয়ে রা্ন্না করা যাবে না, নিষেধাজ্ঞা কলকাতা হাইকোর্টের

Calcutta High Court Photo-SNS

বহু বছর ধরেই সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ অফিসপাড়া হিসাবে পরিচিত। সেখানে বহু সরকারি-বেসরকারি অফিস থাকার পাশাপাশি রয়েছে শিল্পতালুক। আর এখানের কর্মীরা দুপুরে-বিকেলে এবং সন্ধ্যায় বেরিয়ে খাবার খেয়ে থাকেন। গরমাগরম খাবার খেয়ে যে যার গন্তব্যে ফিরে যান। আর যাঁরা এই রান্না করে থাকেন তাঁরা রাস্তার উপরে গ্যাস জ্বালিয়ে খাবার বানিয়ে থাকেন। কিন্তু এবার থেকে আর সেসব করা যাবে না। কারণ রাস্তায় উপর গ্যাস জ্বালিয়ে রান্না করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

দৈনন্দিন অফিসপাড়ায় যে ছবি দেখা যায় তা হল, গরম গরম টোস্ট হোক বা চটজলদি চাউমিন খাচ্ছেন অফিসকর্মীরা। প্রাতঃরাশ থেকে মধ্যাহ্নভোজ হরেক আইটেম সেখানে মেলে। আবার বিকেল গড়ালেই চপ, বেগুনি, পকোড়া কিনতে ভিড় জমে যায় সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এলাকায়। সেক্টর ফাইভ বা সল্টলেকের অফিসপাড়ার ফুটপাতে দেদার গ্যাস জ্বালিয়ে এসব খাবার রান্না করা হয়। কিন্তু এবার সেসবে ছেদ পড়তে চলেছে বলে খবর। কারণ এখন থেকে সল্টলেকের আইটি সেক্টরে ফুটপাতে গ্যাস জ্বালিয়ে খাবার তৈরিতে পাকাপাকিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট।

কদিন আগে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন লাগে। এমনকী শহর কলকাতায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে অনিয়মের তথ্য সামনে চলে আসে। তাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এড়াতে সেক্টর ফাইভের ফুটপাতের ধারের খাবারের দোকানগুলিতে এলপিজি জ্বালিয়ে রান্নায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে নবদিগন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউন ভেন্ডিং কমিটি। এই কমিটি বৈঠক করার পর জানিয়ে দেয়, ওয়েস্ট বেঙ্গল আরবান স্ট্রিট ভেন্ডিং রুলস ২০১৮ সালের ১৪(৩) ধারা এবং সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডগুলির কথা মাথায় ফুটপাতের স্টলগুলিতে গ্যাস জ্বালিয়ে রান্না বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এমনকী প্লাস্টিক এবং ত্রিপলের ব্যবহারও করা যাবে না। আবার রাস্তায় বাসন মাজার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে নবদিগন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউন ভেন্ডিং কমিটি কর্তৃপক্ষ।

এই সিদ্ধান্ত পছন্দ হয়নি ব্যবসায়ীদের। তাই ওই কমিটির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল স্থানীয় হকার-ব্যবসায়ীদের একাংশ। এবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চে হয় ওই মামলার শুনানি। আবেদনকারী হকার-ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জনস্বাস্থ্যবিধি ও অগ্নিবিধি মেনে তাঁরা গ্যাস ব্যবহার করেন। গরম খাবারের জন্যই ক্রেতারা দোকানে ভিড় করেন। তাই গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করলে রুজিরুটি বন্ধ হয়ে যাবে। তখন রাজ্যের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট জেনারেল দাবি করেন, এখন সরকারের কাছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বড় মাথাব্যাথার কারণ। রাস্তায় গ্যাসের ব্যবহার হলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে যায়। আর রান্নার সরঞ্জাম রাস্তার পাশে জড়ো করার জেরে রাস্তার একাংশ বন্ধ হয়ে যায়। হকার-ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলেও তাঁরা ফুটপাত ছাড়তে নারাজ। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর কমিটির সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে সল্টলেকের ফুটপাতে গ্যাস জ্বালিয়ে রান্নায় নিষেধাজ্ঞা জারি করল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।