• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 2 October, 2026

বিদেশে যাচ্ছে কুমোরটুলির মাত্র ৭০টি দুর্গাপ্রতিমা, রফতানির বাজারে বাড়ছে প্রতিযোগিতা

এবছর কুমোরটুলি থেকে বিদেশে যাচ্ছে মাত্র ৭০টি দুর্গাপ্রতিমা। একসময় বিদেশে দুর্গাপ্রতিমা রফতানির ক্ষেত্রে কুমোরটুলির বিশেষ পরিচিতি

বিদেশে যাচ্ছে কুমোরটুলির মাত্র ৭০টি দুর্গাপ্রতিমা, রফতানির বাজারে বাড়ছে প্রতিযোগিতা

এবছর কুমোরটুলি থেকে বিদেশে যাচ্ছে মাত্র ৭০টি দুর্গাপ্রতিমা। একসময় বিদেশে দুর্গাপ্রতিমা রফতানির ক্ষেত্রে কুমোরটুলির বিশেষ পরিচিতি থাকলেও, গত কয়েক বছরে সেই বাজারে উঠে আসছে হুগলি, কৃষ্ণনগর-সহ একাধিক এলাকা। ফলে বাড়ছে প্রতিযোগিতা, যার প্রভাব পড়ছে কুমোরটুলির প্রতিমার অর্ডার ও শিল্পীদের লাভের অঙ্কে। এমনটাই দাবি কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীদের একাংশের।

 

কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সাংস্কৃতিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক রঞ্জিত সরকার জানান, বিদেশে প্রতিমা রফতানির বাজারের পরিধি বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকার শিল্পীরা এখন বিদেশ থেকে অর্ডার নিয়ে প্রতিমা তৈরি করছেন। ফলে দামের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। অন্যদিকে, কাঁচামালের দাম ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিমা রফতানির প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা বাড়ায় শিল্পীদের লাভের পরিমাণও কমছে।

 

শিল্পীদের দাবি, আগে বিদেশে প্রতিমা পাঠিয়ে যে আয় হত, বর্তমানে তার অনেকটাই কমেছে। অর্ডার পাওয়া থেকে শুরু করে বিদেশে প্রতিমা পাঠানো পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যস্থতাকারীদের যুক্ত হওয়ার ফলে রফতানির অর্থের একটি অংশ তাঁদের দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কাঁচামাল ও পরিবহণের খরচ।

 

বিদেশে প্রতিমা রফতানির ক্ষেত্রে বদল এসেছে প্রতিমার ধরনেও। আগে শোলার তৈরি দুর্গাপ্রতিমার চাহিদা বেশি থাকলেও, বর্তমানে ফাইবারের প্রতিমার চাহিদা বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি জাহাজ বা বিমানে পরিবহণের সময় ফাইবারের প্রতিমা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই প্রতিমার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

 

কুমোরটুলির আর এক মৃৎশিল্পী সুজিত পাল জানান, সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বিদেশের প্রতিমার বায়না আসে। তাঁর দাবি, আগের তুলনায় রফতানির সংখ্যা বেড়েছে। তবে এই বাজারে এখন আর কুমোরটুলিই একমাত্র ভরসা নয়। হুগলি, কৃষ্ণনগর-সহ বিভিন্ন এলাকার শিল্পীরাও বিদেশে প্রতিমা পাঠাচ্ছেন। এবারে জাপানে যাচ্ছে মুর্শিদাবাদের প্রতিমা, দক্ষিণ কোরিয়ায় যাচ্ছে শিলিগুড়ির প্রতিমা।

 

শিল্পীদের একাংশের মতে, একসময় কলকাতার শোলার দুর্গাপ্রতিমার বিদেশে যথেষ্ট চাহিদা ছিল। কিন্তু শোলার জোগান কমে যাওয়া এবং পরিবহণের সুবিধার কারণে ফাইবারের প্রতিমার ব্যবহার বেড়েছে। তবে মাটির দুর্গাপ্রতিমার সাজসজ্জায় শোলার ব্যবহার এখনও অব্যাহত রয়েছে।

 

বিদেশে দুর্গাপ্রতিমা রফতানির বাজারের বিস্তার একদিকে যেমন নতুন শিল্পীদের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনই পুরনো শিল্পীদের সামনে বাড়তি প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ এনে দিচ্ছে। বাজারে নিজেদের জায়গা ধরে রাখার পাশাপাশি খরচ সামলে লাভের অঙ্ক বজায় রাখাই এখন কুমোরটুলির শিল্পীদের বড় চিন্তা।