• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 2 October, 2026

ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ, এ বার তদন্তে রাজ্যের দুর্নীতি দমন কমিশন

ইডির পর এ বার প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করল রাজ্যের দুর্নীতি দমন কমিশন। কমিশনের

ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ, এ বার তদন্তে রাজ্যের দুর্নীতি দমন কমিশন

Image: IANS

ইডির পর এ বার প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করল রাজ্যের দুর্নীতি দমন কমিশন। কমিশনের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল তথা প্রধান কে জয়রামনের নেতৃত্বে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী থাকাকালীন একটি সরকারি প্রকল্প ঘিরে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ এবং পরিবারের সদস্যদের নামও রয়েছে।

কমিশনের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”

তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে ‘বাংলা মোদের গর্ব’ নামে একটি প্রকল্প চালু হয়েছিল। রাজ্যের লোকসংস্কৃতি, হস্তশিল্প এবং ইতিহাসকে জেলার পর জেলায় তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীদের সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন জেলায় মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হত। সেখানে স্থানীয় হস্তশিল্পের জন্য স্টল এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকত।

কমিশনের কাছে অভিযোগ, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে এই মেলা ও প্রদর্শনীর জন্য দেওয়া প্রায় সমস্ত টেন্ডারই নির্দিষ্ট কয়েকটি সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মাধ্যমেই টেন্ডারগুলি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন নিজের প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের কয়েকটি সংস্থাকে কোটি কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছিলেন। মেলার স্টল তৈরি থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল ও ভাটিয়ালি শিল্পী এবং আদিবাসী নৃত্যশিল্পীদের নিয়োগ—বিভিন্ন কাজের টেন্ডার ওই সংস্থাগুলিই পেত বলে অভিযোগ। ওই সংস্থাগুলির মালিকদের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠদের সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

যদিও টেন্ডারে অন্যান্য সংস্থাও অংশ নিয়েছিল, তাদের কাউকেই কাজ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কমিশনের কাছে জমা পড়া অভিযোগ অনুযায়ী, টানা দু’বছর ধরে ২৩টি জেলায় মেলা ও অনুষ্ঠানের জন্য কয়েকশো কোটি টাকার কাজের বরাত দেওয়া হয়েছিল।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়। টেন্ডার পাওয়া সংস্থাগুলির মালিকদের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের সম্পর্ক কী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রতিটি মেলার জন্য বরাদ্দ টাকার পরিমাণ, সংস্থাগুলির প্রকৃত খরচ এবং তাদের লাভের পরিমাণও হিসাব করে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগের আরও একটি দিক হল, মেলার স্টলে স্থানীয় শিল্পীদের তৈরি পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কমিশন নিত। সেই কমিশনের টাকা কার কাছে এবং কী ভাবে পৌঁছত, তা-ও খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

তদন্তের প্রয়োজনে ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রাথমিক তদন্তের পর একটি রিপোর্ট তৈরি করে রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেবে কমিশন।