• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 2 October, 2026

‘বর্ষাতি গায়ে দিয়ে স্নান করার অভ্যাসটা ওনার চিরদিনের’, দুর্গাপুজো পাস দুর্নীতিতে মমতাকে খোঁচা দিলীপের

তাছাড়া ইডির অবশ্য দাবি, ইন্দ্রনীল মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর এবং তাঁর মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে মোট ৩.৮ কোটি

‘বর্ষাতি গায়ে দিয়ে স্নান করার অভ্যাসটা ওনার চিরদিনের’, দুর্গাপুজো পাস দুর্নীতিতে মমতাকে খোঁচা দিলীপের

Dilip Ghosh Image: SNS

দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’র পাসের টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর তার জেরে ইডির স্ক্যানারে উঠে এসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁকে প্রায় ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। এই ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থার টাকা নাকি ঢুকেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। গতকাল সমাজমাধ্যমে এমনই বিস্ফোরক দাবি করল ইডি। এবার এই ঘটনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। ‘মাস আর্ট’ তদন্তে এই দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি, দপ্তরে তল্লাশি চালানোর পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল ইডি। আগামী সপ্তাহে আবার তাঁকে তলব করা হয়েছে। এই আবহে দিলীপ ঘোষের খোঁচা, ‘উনি নিজে সততার প্রতীক সেজে সবাইকে ফাঁসিয়েছে। এসব আর চলবে না। উনি নিজেকে সততার প্রতিমূর্তি রেখে বাকি সবাইকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। তার নেতা মন্ত্রীরা জেলে যাচ্ছেন। অথচ ওনার গায়ে কোনও কালি লাগেনি।’

ইডির বিবৃতি অনুযায়ী, জনৈক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই অভিযোগে নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী তথা ম্যাসআর্টের সভাপতি মধুচ্ছন্দা সেন, সচিব ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের। ২০২২ সাল থেকে প্রায় তিন বছর দুর্গাপুজোর পাসের নামে বিপুল টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। আর ওই টাকা পরে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই বিষয়টি সামনে আসতেই শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দিলীপ ঘোষের তোপ, ‘এই চালাকিটা আর বেশিদিন চলবে না। বর্ষাতি গায়ে দিয়ে স্নান করার অভ্যাসটা ওনার চিরদিনের। ওনার জন্যই পুরো পার্টি আজ ডুবে গিয়েছে। নেতা-মন্ত্রীরা সবাই কলুষিত। উনি এতদিন বেঁচেছিলেন। এবার বের হচ্ছে আসল ঘটনা।’

তাছাড়া ইডির অবশ্য দাবি, ইন্দ্রনীল মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর এবং তাঁর মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে মোট ৩.৮ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। পরে সেই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তর করা হয়। এই বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, ‘রয়্যালটি’ বাবদ ওই টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছে। তবে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের পর পাল্টা জবাব দিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়কও। কুণাল ঘোষের পাল্টা দাবি, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু লেখিকা নন, উনি গান লেখেন, সুর করেন। ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থার সঙ্গে ওনার চুক্তি ছিল। সেই মতোই টাকা পেয়েছেন। আর তা আয়কর রিটার্ণে দেখানোও হয়েছে। মিথ্যে প্রচার করা হচ্ছে। এতে দুর্নীতি হল কেমন করে?’