• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 1 October, 2026

নারী নিরাপত্তা

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির মধ্যে দিল্লির আস্থাকুঞ্জ পার্কে গণধর্ষণ, স্বরূপনগরে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং চলন্ত বাসে নাবালিকার

নারী নিরাপত্তা

প্রতীকী চিত্র

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির মধ্যে দিল্লির আস্থাকুঞ্জ পার্কে গণধর্ষণ, স্বরূপনগরে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং চলন্ত বাসে নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা রয়েছে। এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতেই সর্বোচ্চ আদালত প্রশ্ন তুলেছে— ২০১২ সালের
নির্ভয়া-কাণ্ডের পর এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জননিরাপত্তার ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কতটা হয়েছে? আদালতের বক্তব্য, আলো কম, নজরদারি দুর্বল এবং পুলিশের উপস্থিতি অনিয়মিত হলে কোনও জনস্থানই নিরাপদ বলে দাবি করা যায় না।
সমস্যাটি অবশ্য শুধু দিল্লির কয়েকটি অন্ধকার পার্ক বা নির্জন রাস্তার নয়। ধর্ষণ ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে আইন গত এক দশকে কঠোর হয়েছে, কিন্তু কঠোর আইন তখনই কার্যকর হয় যখন তদন্ত দ্রুত হয়, প্রমাণ সঠিকভাবে সংগ্রহ হয় এবং বিচার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হয়। অন্যথায় আইনের ভয় তৈরি হয় না। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিশ্চিত ব্যবস্থা নেওয়ার ধারণাকেই দুর্বল করে।
এই কারণেই পুলিশের টহল বা সিসিটিভি বাড়ানোর পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার দিকেও নজর দিতে হবে। ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত তৈরি হয়েছে, বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠিত হয়। কিন্তু কেবল নতুন ব্যবস্থা ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। তদন্তকারী পুলিশ, সরকারি কৌঁসুলি, ফরেন্সিক পরিষেবা এবং আদালতে পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলে মামলার পাহাড় কমবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যেও অপরাধ তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরকে প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত করার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।
আর একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নারীর নিরাপত্তার নামে যদি সন্ধ্যার পর পার্কে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে সমস্যার সমাধান হয় না, বরং নারীর চলাফেরার স্বাধীনতাই সীমিত হয়। নিরাপদ শহর মানে এমন শহর, যেখানে নারী সন্ধ্যায় পার্কে যেতে, কর্মস্থল থেকে ফিরতে বা গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারেন। নিরাপত্তার দায়িত্ব নাগরিকের নয়, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের।
আরও উদ্বেগের বিষয় হল, যৌন অপরাধের তদন্তে কখনও কখনও ভুক্তভোগীর পোশাক, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আচরণকে অপ্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রবণতা তৈরি হয়। তদন্তের কেন্দ্র হওয়া উচিত অপরাধের প্রমাণ, অভিযুক্তের ভূমিকা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তাই কেবল আলো, সিসিটিভি বা পুলিশের টহল বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রতিটি জেলায় তদন্তে দেরি, চার্জশিট দাখিলের সময়, বিচার শেষ হতে কতদিন লাগছে এবং কত মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে— এই তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা দরকার। কোথায় প্রশাসনিক গাফিলতি হয়েছে, তারও দায় নির্ধারিত হওয়া উচিত। সাক্ষী সুরক্ষা, ফরেন্সিক পরীক্ষার দ্রুততা এবং নির্যাতিতার মানসিক ও আইনি সহায়তাও একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।
সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আদালতের নির্দেশ নিজে নিরাপত্তা তৈরি করতে পারে না। তার সাফল্য নির্ভর করবে পুলিশ, প্রশাসন, পুরসভা ও বিচারব্যবস্থা কতটা আন্তরিকভাবে তা কার্যকর করছে তার উপর। চার সপ্তাহ পরে শুধু একটি রিপোর্ট জমা পড়লেই চলবে না; কোথায় কী পরিবর্তন হয়েছে, তার পরিমাপযোগ্য প্রমাণও চাই।
বারবার নির্দেশ, তারপর শিথিল বাস্তবায়ন— এই চক্র ভাঙাই এখন সবচেয়ে জরুরি।