• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 28 September, 2026

বেতন বৈষম্যের সঙ্গে এবার ছাঁটাইয়ের ঘা, বিকাশ ভবন ঘেরাও কম্পিউটার শিক্ষকদের

এই শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, পাঁচ বছরের চুক্তিতে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে রাজ্যের তিন হাজারের বেশি কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ

বেতন বৈষম্যের সঙ্গে এবার ছাঁটাইয়ের ঘা, বিকাশ ভবন ঘেরাও কম্পিউটার শিক্ষকদের

Computer Teachers Agitation Photo-SNS

একা রামে রক্ষে নেই শুগ্রীব তার দোসর। এমনই অবস্থা হয়েছে কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বলে অভিযোগ। একে বড় অঙ্কের বেতন বৈষম্য রয়েছে। তার উপর এবার দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে নেমে এল ছাঁটাই। এই পরিস্থিতিতে পড়ে চোখে জল নেমে এসেছে কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। দুর্গাপুজোর মুখে চাকরি গিয়েছে ইনফরমেশন কমিউনিকেশন অ্যান্ড টেকনোলজির (আইসিটি) ইন্সট্রাক্টর শিক্ষকদের একটি অংশের। সোমবার এই অভিযোগকে সামনে রেখে বিকাশ ভবন অভিযান করল আইসিটি ঐক্য মঞ্চের ৬ এবং ৭ অংশের শিক্ষকরা। চাকরি ফেরত পাওয়া এবং চাকরির স্থায়িত্বের দাবি তুলে আন্দোলন করেন ওই শিক্ষকরা।

প্রায় একহাজার শিক্ষক বিকাশ ভবনে ঢুকতে গেলে অনেকটা আগেই পুলিশ পথ আটকে দেয়। তখন তাঁরা হতাশ হয়ে মাঝ রাস্তায় বসে পড়েন। কম্পিউটার শিক্ষকদের দাবি, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। থালা বাজিয়ে এবং রাস্তার শুয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন শিক্ষকরা। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে। আর তখনই ক্ষিপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা ব্যারিকেড ফেলে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১০ জনের প্রতিনিধিদলকে বিকাশ ভবনে যেতে দেওয়া হবে। সরকারি স্কুল এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে কম্পিউটার শেখানোর জন্য নিয়োগ হন এই শিক্ষকরা। এজেন্সি মারফত নিয়োগ করা হয় তাঁদের। সেই টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হতেই ওই সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে তাঁদের চাকরির মেয়াদও শেষ। সুতরাং দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে চাকরি যাওয়ায় দিশেহারা অবস্থা কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।

এই শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, পাঁচ বছরের চুক্তিতে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে রাজ্যের তিন হাজারের বেশি কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল ২০২২ সালে। ওই চুক্তি অনুযায়ী কারও চাকরির মেয়াদ উত্তীর্ণ হচ্ছে চলতি বছরে। কারও ২০২৭ সালের শুরুতে। কিন্তু কদিন আগে ওই বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আগামী ৯ অক্টোবর তারিখের মধ্যে যাবতীয় নথি দায়বদ্ধ সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এই নির্দেশ পেয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। আইসিটি ফেজ ১-৫ পর্যন্ত সকলে সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে কাজ করার পরেও ষষ্ঠ এবং সপ্তম ফেজের শিক্ষকরা ওয়েবেল স্কুল নেট কিংবা এক্সট্রা মার্কের মতো এজেন্সির অধীনে থেকে কাজ করে চলেছেন।

এখানেই শেষ নয়, একই কাজ করলেও উভয় ফেজের মধ্যে বিপুল বেতন বৈষম্য রয়েছে বলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিযোগ। কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিযোগ, ১-৫ ফেজের শিক্ষকরা পান ২৫-৩০ হাজার টাকা। আর এজেন্সির অধীনে কাজ করে ৬ ও ৭ ফেজের শিক্ষক-শিক্ষিকারা হাতে পান ৬-৮ হাজার টাকা। উল্লেখ্য, বামফ্রন্ট সরকারের জমানায় চুক্তির ভিত্তিতে কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ করা শুরু হয় সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে। আর তৃণমূল সরকার চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষকদের ৬০ বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ করে দেয়। এই বিষয়ে শিক্ষিকা পাপিয়া দাস বলেন, ‘আমরা এজেন্সির অধীনে আছি। আগের ফেজগুলির মতোই পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছি আমরা। তাই আমাদেরও যেন সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নেওয়া হয়। ৩৭১৯ জনের পরিবার আছে। দুর্গাপুজোর আগে ছাঁটাইয়ের চিঠি পেলাম।’ আর মিছিল থেকেই আর এক শিক্ষিকা বলেন, ‘দুর্গাপুজোর আগে এভাবে চাকরি থেকে আমাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে। এটা কেমন বিচার? সরকারকে এটার বিহিত করতেই হবে।’