রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস কর্মী খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাড়ি ফেরার পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে জিয়াউর রহমান ওরফে পিন্টুর উপর। ৪৫ বছরের ওই কংগ্রেস কর্মীর পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয়। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে ইসলামপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার বিকেলে পারিবারিক কাজে দেবাইপুর গিয়েছিলেন জিয়াউর। সন্ধ্যায় বাইকে করে বাড়ি ফেরার সময় গোপালপুর গ্রামের কাছে কয়েকজন তাঁর পথ আটকায় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে অভিযুক্তেরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
গুরুতর জখম অবস্থায় জিয়াউরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিক ভাবে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ৬ অক্টোবরের রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের ভয় দেখাতেই এই হামলা ও খুন করা হয়েছে। দলের তরফে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং এনসিপিআইয়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। তবে এনসিপিআই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ঘটনার পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই; পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড।
রানিনগরের কংগ্রেস বিধায়ক জুলফিকার আলি দাবি করেছেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে জিয়াউরের নেতৃত্বে ওই এলাকায় কংগ্রেস উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, আসন্ন উপনির্বাচনের আগে দলের স্থানীয় সংগঠকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্ত শুরু করা হয় এবং দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে।
রেজিনগর আসনে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে ভোটের আগে কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।




