মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করতেই হবে! নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিরোধ নিয়ে যে খবর সামনে এসেছে তা নিয়ে এমনই দাবি করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সমাজমাধ্যমে ভিডিও বার্তায় তিনি নির্বাচন কমিশনের ঘটনা নিয়ে সুর সপ্তমে তোলেন তৃণমূল সু্প্রিমো। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের দুই সহযোগী সদস্যের মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল সেটাই এবার সামনে চলে এসেছে। ১০ মাসে ১৪ বার নিষেধ করা হলেও তিনি তা শোনেননি বলে অভিযোগ। এমনকী এসবে একচ্ছত্র আধিপত্য এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। এসআইআর ইস্যুতে জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারের দাবিতে সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে একের পর এক ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বাকি দুই কমিশনারের বিবাদ হয়েছিল বলে খবর সামনে এসেছে। তা নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা দেশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ‘একমাত্র বিজেপির হয়ে কাজ করাই নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য। আর এখন সেটাই গোটা দেশের সামনে বেআব্রু হয়ে গিয়েছে। সর্বপ্রথম আমরাই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট চেয়েও চিঠিও দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। জ্ঞানেশ কুমারের জন্যই বিজেপি ২০২৪ সালে জিতেছে, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে যত ভোট হয়েছে তাতেও নির্বাচন কমিশনের জন্যই জয় পেয়েছে ওরা। এমনকী ২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও কমিশনের সাহায্যে লুট করে বিজেপি জয় পেয়েছে।’
অন্যদিকে ইতিমধ্যেই রাহুল গান্ধী, কপিল সিব্বাল, অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ তামাম বিরোধীরা জ্ঞানেশ কুমারের মুণ্ডপাত করেছেন। গোটা দেশে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় কোণঠাসা নির্বাচন কমিশনারের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এই ঘটনা সামনে আসতেই রণংদেহী মেজাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের ভোট ফিরিয়ে দিন। বাংলার ভোট লুট করা হয়েছে। জনজাগরণ হওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেপ্তার করা উচিত। যে যে রাজ্যে এসআইআর করে ভোট হয়েছে, সেখানে পুনর্নির্বাচন করতে হবে। নতুন করে ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। আপনাকে ইমপিচমেন্ট নয়, গ্রেপ্তার করতে হবে। আর আপনাকে গ্রেপ্তার না করলে যুব, তরুণ, মা-বোনেরা আন্দোলনে সামিল হবেন। যেসব ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে, তাদের নাম সমস্ত পুরনো তালিকায় ফিরিয়ে দিতে হবে। আবার পুরনো ভোটার তালিকায় ফের ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা স্বাধীনতা পেয়েও পরাধীন। এই জোর করে ভোট জিতে অত্যাচার চালাচ্ছে। ১৪ হাজার কেস দিয়েছে।’
শুধু এসআইআর নয়, জ্ঞানেশ কুমারের বহু সিদ্ধান্তে সহমত ছিলেন না দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। তবে এই দাবি নস্যাৎ করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও গোটা ঘটনার তদন্ত চেয়ে সরব হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর সপ্তমে তুলে দাবি করেন, ‘আমার প্রথম দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তারর করতে হবে। তাঁর যাঁরা মদতদাতা তাঁদেরও গ্রেপ্তার দরকার। যেসব মানুষের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের পুরনো লিস্টে ফেরাতে হবে। যে যে রাজ্য এসআইআরের নামে ইভিএম মেশিন ক্যাপচার করে জিতেছে, সেই রাজ্যগুলিতে আবার নতুন করে পুরনো লিস্টে ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি তৈরি হয়েছে। জোর করে বাংলার ভোট লুট করেছে। আপনারা ভোটে জেতেননি। যদি এক ফোঁটা নীতিবোধ থাকে আমাদের নির্বাচন ফিরিয়ে দিন। আমরা প্রধান বিচারপতির কাছে সময় চাই। সীমা খান্নাকে এক্সপোজ প্রথম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করে। আমরা প্রতিবাদ করেছি বলে আমাদের প্রতীক কেড়ে নিয়েছে। বিজেপিকে সন্তুষ্ট করেছেন জ্ঞানেশ কুমার।’




