• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 22 September, 2026

প্রথম সোনা হরমনপ্রীতদের, মন্ধানা-শেফালির ঝড়ের পর রিচা, দীপ্তির তাণ্ডব! শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দাপুটে জয়

অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর ২৯, কাভিশা দিহারির ১১ ও কৌশিনি নুথিয়াঙ্গনার ১৪ ছাড়া আর কোনো ব্যাটারের স্কোর পাঁচ রানেও পৌঁছতে পারেনি। এত সহজেই যে সোনা জিতে নিতে পারবেন তাঁরা, তা বোধহয় ভাবতেই পারেননি হরমনপ্রীতরা।

প্রথম সোনা হরমনপ্রীতদের, মন্ধানা-শেফালির ঝড়ের পর রিচা, দীপ্তির তাণ্ডব! শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দাপুটে জয়

Photo: X

চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম সোনার পদক হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মান্ধানাদের গলাতেই উঠল। গতবারের সোনাজয়ীরা এ বারও তাদের সেই সাফল্য বজায় রাখলেন নিশিনের ক্রিকেট মাঠে। মঙ্গলবার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার মেয়েদে বিরুদ্ধে রীতিমতো দাপুটে ক্রিকেট খেলে সোনার পদক জিতে নিলেন হরমনপ্রীত কৌররা। শ্রীলঙ্কাকে তারা হারায় ১৪৭ রানে। টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই ব্যবধান নেহাত কম নয়।

ফাইনালের শুরুটা ছিল বিধ্বংসী। মাঝের দিকে একটু গতি কমেছিল। কিন্তু শেষটা আবার হয় বিস্ফোরণ দিয়ে! এশিয়ান গেমসের মহিলাদের ক্রিকেট ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার সামনে ২১৭ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ভারতের রান ছিল ২১৬—এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ক্রিকেটে এটাই সর্বোচ্চ দলগত রান।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। তাঁর সিদ্ধান্ত যে একেবারে ঠিক, তা শুরু থেকেই বুঝিয়ে দেন স্মৃতি মন্ধানা এবং শেফালি ভার্মা। পাওয়ারপ্লে-তেই দু’জনে মিলে শ্রীলঙ্কার বোলিংকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন। প্রথম ছয় ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ভারত তোলে ৬৭ রান।

মন্ধানার ব্যাট যেন থামতেই চাইছিল না। মাত্র ৩০ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন বাঁহাতি ওপেনার। শেফালিও পিছিয়ে ছিলেন না। পঞ্চম ওভারে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকে পর পর দু’টি ছক্কা হাঁকান তিনি। একই ওভারে মন্ধানার ছক্কায় ১৯ রান আসে।

শেফালি ২৯ বলে ৪৮ তুলে দিয়ে ফিরে গেলেও মন্ধানা তখনও ক্রিজে। তবে ১৬.৫ ওভারে তাঁর দুর্দান্ত ইনিংসের শেষ হয়। সুগন্ধিকা কুমারীর বলে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মন্ধানা। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ঝকঝকে ৪৫ বলে ৭৯ রান—৫টি চার এবং ৭টি ছয়-সহ।

শেফালি-মন্ধানা শুধু রানই করেননি, তৈরি করেছেন একটি বিশেষ নজিরও। মহিলা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ওপেনিং জুটি হিসেবে তাঁরা একসঙ্গে ৪,০০০ রান পূর্ণ করলেন।

Indian women's cricket team
Photo: X

মন্ধানা ফেরার পর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। হরমনপ্রীত কৌর ১৭ বলে ১৯ করে ফিরে যাওয়ায় এই চাপ তৈরি হয়। কিন্তু তা ছিল নেহাতই সাময়িক। সেখান থেকেই ম্যাচের শেষ পর্বটা নিজেদের দখলে নিয়ে নেন বাংলার মেয়ে রিচা ঘোষ। চার নম্বরে নেমে উইকেটকিপার-ব্যাটার রীতিমতো ঝড় তোলেন।

১৮তম ওভারে কাভ্যা কাভিন্দির বিরুদ্ধে রিচার ব্যাট থেকে আসে ৪, ৪, ৬। পরের ওভারেও ভারত পায় ৯ রান। আর শেষ ওভারে তো দেখা যায় রিচার তাণ্ডব! মিথালি আয়োধ্যার শেষ ওভারে ভারত তোলে ২৫ রান। রিচা মারেন দু’টি বিশাল বিশাল ছক্কা এবং একটি চার। শেষ বলে চার মেরে ইনিংসও শেষ করেন তিনি। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসে মাত্র ২২ বলে আসে ৪৯ রান।

ফলে ২০ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ২১৬/৩। এশিয়ান গেমসের মহিলাদের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলগত স্কোর।

শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য ছিল ২১৭। অর্থাৎ সোনা জিততে হলে চামারি আতাপাত্তুর দলকে এই রানই তুলতে হত। যা প্রথম দশ ওভারের মধ্যেই হয়ে যায় অসম্ভব। দশ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৫২ রান তুললেও, হারায় ছয় উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে ৬৯ রানেই অল আউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দীপ্তি শর্মা তিনটি উইকেট নেন। শেফালি, শ্রেয়ঙ্কা পাটিল ও শ্রীচারনি দু’টি করে উইকেট পান।

অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর ২৯, কাভিশা দিহারির ১১ ও কৌশিনি নুথিয়াঙ্গনার ১৪ ছাড়া আর কোনো ব্যাটারের স্কোর পাঁচ রানেও পৌঁছতে পারেনি। এত সহজেই যে সোনা জিতে নিতে পারবেন তাঁরা, তা বোধহয় ভাবতেই পারেননি হরমনপ্রীতরা।

এশিয়ান গেমসের ২০২৬ ফাইনাল কার্যত মন্ধানা-শেফালি বনাম আতাপাত্তুর লড়াই হিসাবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু প্রথম ইনিংসের পর শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং শুরু হতেই ছবিটা পুরো বদলে দেয় ভারত। বিশাল রানের পাহাড় টপকাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেয়ে যায় তারা এবং অবশেষে মুখ থুবরে পড়ে। ফলে এশিয়ান গেমসের মেয়েদের ক্রিকেটে সোনা ভারতের কাছেই রয়ে গেল।