পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন, কৃষির প্রসার এবং পর্যটন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। সোমবার কালিম্পং সফরে এসে একাধিক কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি পাহাড়ের নানা সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোমবার সকালে কালিম্পং পৌঁছন মন্ত্রী। সেখানে তিনি ‘শৈলশিখর’ নামে একটি নতুন গেস্ট হাউজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তারপর পাইন ভিউ গেস্ট হাউজে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
এখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, জিরামজি প্রকল্পে এবার পঞ্চায়েত ও উন্নয়নের কাজের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ আছে। পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, ‘সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের কাজের ধরণ ভিন্ন। পাহাড়ি এলাকার কৃষকরা মূলত ধাপ কেটে বা ঝুম চাষ করেন। আমরা এই জমিগুলিকে কাটিং ও প্রসেসিং করে এমনভাবে তৈরি করে দেব, যাতে স্থানীয় কৃষকরা সহজে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে চাষাবাদ করতে পারেন।’ তাঁর আরও বক্তব্য, পঞ্চায়েতের মাধ্যমে প্রায় ৩৭৫ ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। যা দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।
পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী কমলালেবু চাষের এখন সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। দিলীপবাবু বলেন, ‘একসময় পাহাড়ের কমলালেবুর খুব নাম ছিল। কিন্তু সরকারি উদাসীনতায় তা প্রায় শেষ হতে বসেছিল। আজ আমরা কালিম্পংয়ে নতুন করে কমলালেবুর চারা বিতরণ শুরু করেছি। যাঁরা চাষে আগ্রহী, সরকার তাঁদের ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সমস্ত ধরনের সাহায্য দেবে।’
পাহাড়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘জল সংকট’ এবং ‘জল জীবন মিশন’ নিয়ে রাজনীতি করা। কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’-এর বাস্তবতা তুলে ধরে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, ‘পুরো পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের নামে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। অথচ আজ গ্রাম, শহর কিংবা পাহাড়ে কোথাও জল নেই। এই প্রকল্পের পরিকল্পনায় বড় গলদ ছিল এবং কোটি কোটি টাকা লুট হয়েছে। এটার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। জড়িত প্রকৌশলী, ঠিকাদার কিংবা রাজনীতিবিদ কাউকে রেয়াত করা হবে না।’
কালিম্পং ও দার্জিলিং অঞ্চলে পর্যটন ও পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত প্রধান, সচিব, এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং বিডিও-দের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাহাড়ের ক্রমবর্ধমান যানজট কাটাতে নতুন পার্কিং স্পেস তৈরি, নতুন ভিউ পয়েন্ট এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে পর্যটকদের সুবিধা হয় এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতি পায়। পাহাড়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, জল নিকাশি নালা সংস্কার এবং পানীয় জলের সংকট মেটাতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।




