বিনা যুদ্ধে না ছাড়িব সুচ্যগ্র মেদিনী-এই ঐতিহাসিক বক্তব্যকে সামনে রেখেই এবার রেজিনগরের মাটিতে নেমে পড়লেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। নতুন প্রতীকে তিনিই প্রথম প্রার্থী। তাই চ্যালেঞ্জ আছে বিস্তর। প্রথমে এই চ্যালেঞ্জ নেওয়া থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কথা বললেও তৃণমূলনেত্রীর একটি ফোন খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছে। তাই আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একাধিকবার এখান থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। তাই রবিবার নিজের সংগঠনকে ঝালিয়ে নিতে শুরু করলেন। একইসঙ্গে শুরু করলেন স্ট্র্যাটেজি বৈঠক।
এদিকে রবিবার ছুটির দিন থেকেই কাজ শুরু করলেন রবিউল। বেলডাঙার দলীয় কার্যালয়ে এদিন স্ট্র্যাটেজি বৈঠক সেরে ফেললেন রেজিনগরের প্রার্থী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ, জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলিরা। আর এখানেই তৈরি হয় স্ট্র্যাটেজি। কেমন করে মানুষের কাছে যাবেন তাঁরা, কী বলবেন, নতুন প্রতীক চেনাবেন কেমন করে এবং ভোটের মাটিতে রণকৌশল কী হবে? এই প্রশ্নগুলি সামনে রেখে শুরু হয় বৈঠক। উপনির্বাচনে প্রচারের রণকৌশলে ঠিক করতেই বৈঠক ডাকেন রবিউল। মমতার অনুগামী নেতৃত্ব এবং দলের স্থানীয় কর্মীরা তাতে যোগ দেন। রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। তার ফলাফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর। তার আগে এমন বৈঠক নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
অন্যদিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন হুমায়ুন কবীর। নওদা আসনও জেতার পর রেজিনগর তিনি ছেড়ে দেন এবং তাই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই হাতে সময় খুব কম। মমতা তৃণমূল শিবির এই উপনির্বাচনে ‘ফুটবলার’ চিহ্নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। রবিবার এই স্ট্র্যাটেজি বৈঠকে রবিউলের হাতে ফুটবল তুলে দেন আলিফা, বাবর আলিরা। ইতিমধ্যেই রবিউল নিজের এলাকায় প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। রেজিনগরে পঞ্চায়েত ধরে ধরে রণনীতি সাজাচ্ছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস বলে সূত্রের খবর।
তাছাড়া রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় সাংসদ আবু তাহের খানের ভাগ্নে সফিউজ্জামান হাবিব প্রচারে নেমেছেন। রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারও প্রচার করছেন। কিন্তু এদিনের বৈঠকের পর বিধায়ক আলিফা আহমেদ বলেন, ‘রেজিনগরে মানুষই শেষ কথা বলবে। মমতার সরকার ভাল ছিল, না এই চার মাসের বিজেপি সরকার, এটা মানুষ বিবেচনা করবে। আমরা উপনির্বাচন নিয়ে ১০০ শতাংশ আশাবাদী।’ আবার জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলির কথায়, ‘বিজেপির তো অনেক প্রতিশ্রুতি ছিল। বাস্তবে তার কিছুই হচ্ছে না। আমাদের দলের নামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। প্রতীক চিনে নিতে মানুষের অসুবিধা হবে না। এই নতুন প্রতীকে রবিউল প্রথম প্রার্থী। আমরা আশাবাদী।’




