শুরুতেই পদক নিশ্চিত হল ভারতের! এশিয়ান গেমসে ভারতের পদক-খাতা খুলে দিলেন সুচিকা তারিয়াল। তা-ও আবার এমন একটি খেলায়, যে খেলাটি এই প্রথম এশিয়ান গেমসের মঞ্চে জায়গা পেয়েছে। রবিবার মঙ্গোলিয়ার আলতানচিমেগ বায়গালমাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে মহিলাদের ট্র্যাডিশনাল মিক্সড মার্শাল আর্টসের ৬০ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে উঠলেন ভারতের ৩৬ বছরের সুচিকা। ফলে ভারতের প্রথম পদক নিশ্চিত হয়ে গেল।
সেমিফাইনালে ওঠা মানেই পদক নিশ্চিত। শেষ চারে পরাজিত দুই প্রতিযোগীকেই ব্রোঞ্জ দেওয়া হবে। অর্থাৎ সোমবার সেমিফাইনালে নামার আগেই সুচিকার গলায় পদকের নিশ্চয়তা। তবে তাঁর লড়াই থামছে না। এবার লক্ষ্য ফাইনালের টিকিট।
মঙ্গোলিয়ার বায়গালমা ইউরেশিয়া অঞ্চলের ৯২ নম্বর র্যাঙ্কের প্রতিযোগী। কিন্তু তাঁকে নিয়ে বিশেষ সমস্যায় পড়তে হয়নি সুচিকাকে। শুরু থেকেই লড়াই নিয়ন্ত্রণে রেখে ২-০ ব্যবধানে জিতে শেষ চারে জায়গা করে নেন তিনি।
সুচিকার এই পদক শুধু ভারতের জন্য নয়, তাঁর নিজের ক্রীড়াজীবনেরও এক নতুন অধ্যায়। জুডো, কুরাশ, জিউ-জিৎসু পেরিয়ে এ বার এমএমএ। ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। ২০২৩ এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছিলেন কুরাশে। ২০২৪ সালে জিউ-জিৎসু বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হয়েছেন।
এর পরেই অবশ্য খেলাধুলা থেকে সরে গিয়েছিলেন সুচিকা। কিন্তু বন্ধুদের উৎসাহে ফের প্রতিযোগিতায় ফেরেন। এমএমএ-কে বেছে নেন নতুন চ্যালেঞ্জ হিসাবে। হাঁটুর চোট-সহ একাধিক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমসে এই খেলায় অভিষেক। আর অভিষেকেই ইতিহাস।
এর আগে সুচিকা জানিয়েছিলেন, এমএমএ-তে তাঁকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভারতীয় যোদ্ধা পুজা তোমর এবং প্রাক্তন ওয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ যোদ্ধা হিমাংশু কৌশলের বড় ভূমিকা ছিল। তাঁর কথায়, ‘আমি হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, ঠিক আছে, শেষ হয়ে গিয়েছে, এটাই যথেষ্ট। তার পর পুজা এবং হিমাংশু আমাকে এক বার চেষ্টা করে দেখতে জোর করেছিল। ওরা বলেছিল, আমার দক্ষতা ভাল এবং আমি দ্রুত বিষয়টা আয়ত্ত করে নিতে পারব। এই দু’জনই আমাকে এমএমএ-তে নিয়ে এসেছিল।’
এশিয়ান গেমসে এমএমএ-র অভিষেকেই তাই ভারতের ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেললেন সুচিকা। সোমবার সেমিফাইনালে তাঁর সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। পদক নিশ্চিত হয়েছে, কিন্তু ৩৬ বছরের এই যোদ্ধার চোখ এখন আরও উঁচুতে—রুপো বা সোনায়।




