• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 19 September, 2026

রুসা পেরিয়ে ‘পিএম ঊষা’, যাদবপুরে ২৪ জনের কমিটি ঘিরেই নতুন বিতর্ক!

বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য নির্ধারিত আর্থিক অনুদানের প্রকল্প ‘রুসা’-র নাম বদলে কেন্দ্রীয় সরকার করেছিল ‘পিএম ঊষা’। এ বার সেই প্রকল্পের আওতায়

রুসা পেরিয়ে ‘পিএম ঊষা’, যাদবপুরে ২৪ জনের কমিটি ঘিরেই নতুন বিতর্ক!

Image: IANS

বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য নির্ধারিত আর্থিক অনুদানের প্রকল্প ‘রুসা’-র নাম বদলে কেন্দ্রীয় সরকার করেছিল ‘পিএম ঊষা’। এ বার সেই প্রকল্পের আওতায় অর্থ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগোল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অস্থায়ী রেজিস্ট্রার দেবজিৎ দত্তকে আহ্বায়ক করে মোট ২৪ জন সদস্যকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘পিএম ঊষা’ কমিটি। তবে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

আগে ‘রুসা’-র মতো প্রকল্পের সঙ্গে ‘পিএম’ যুক্ত করার বিরোধিতা করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। রাজ্যের যুক্তি ছিল, সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষা যৌথ তালিকাভুক্ত বিষয়। ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে আর্থিক অনুদান দেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই সরকারেরই। সেই কারণে কোনও প্রকল্পের নামে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর নাম যুক্ত করা নিয়ে আপত্তি ছিল রাজ্যের। তৎকালীন রাজ্য সরকার প্রকল্পে সম্মতি না দেওয়ায় রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কেন্দ্রীয় অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছিল বলে অভিযোগ।

পরবর্তী সময়ে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিজেপি সরকার ‘পিএম ঊষা’ প্রকল্পে সম্মতি দেয়। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সমঝোতাপত্রও স্বাক্ষরিত হয়। ফলে এ বার কেন্দ্রীয় অনুদান পেতে আর কোনও বড় বাধা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই যাদবপুরে গঠন করা হয়েছে নতুন কমিটি।

জানা গিয়েছে, ‘পিএম ঊষা’-র অর্থ কোন খাতে এবং কী ভাবে খরচ করা হবে, তার পরিকল্পনা তৈরি করবে এই কমিটি। সেই পরিকল্পনা পরবর্তী সময়ে কর্মসমিতির কাছে পেশ করা হবে। কিন্তু কমিটি তৈরির পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ।

বিভিন্ন ডিন, কর্মসমিতির সদস্য এবং বিভাগীয় প্রধানের তরফে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর। তাঁদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই কমিটি গঠন করা হয়নি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, কমিটি তৈরিতে কোনও অনিয়ম হয়নি।

এর মধ্যেই কর্মসমিতির বৈধতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে ইতিমধ্যে ওই কমিটিতে সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, কয়েক দিন আগেই উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর তরফেও একজন প্রতিনিধি মনোনীত হয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে, কর্মসমিতির বৈধতা নিয়েই যখন মামলা চলছে, তখন সেই কর্মসমিতির সঙ্গে সম্পর্কিত কমিটিতে সরকারের তরফে সদস্য মনোনয়ন কী ভাবে সম্ভব?

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, গত বছর ‘রুসা ২.০’-র জন্যও একটি কমিটি তৈরি হয়েছিল। তবে সেই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে দাবি। এ বার সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ উঠছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বাজেট ঘোষণার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২৫০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। সেই অর্থের ব্যবস্থাপনার জন্যও ‘ইনস্টিটিউট অব এমিনেন্স’ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেটি নিয়েও আপত্তি তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ।

শিক্ষকদের একাংশের দাবি, কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী কর্মসমিতি এবং প্রকল্প পর্যবেক্ষণকারী ইউনিটকে এড়িয়ে এই ধরনের কমিটি তৈরি করা যায় না। তাঁদের অভিযোগ, ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল এবং বোর্ড অব স্টাডিজের মতো বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলিকেও এ ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাই গোটা প্রক্রিয়াটিই নিয়মবহির্ভূত বলে দাবি তাঁদের।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ মানতে নারাজ। এক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তার বক্তব্য, গত মার্চে যে কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছে, তার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে এবং বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলাও রয়েছে। তবে উপাচার্যের বিভিন্ন কমিটি গঠনের ক্ষমতা রয়েছে। পরে সেই কমিটির বিষয় কর্মসমিতিতে পেশ করা যায়। অতীতেও একই পদ্ধতিতে একাধিক কমিটি গঠন হয়েছে। ফলে নিয়ম না মেনে কমিটি তৈরির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেই দাবি কর্তৃপক্ষের।

দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের অভাবে পরিকাঠামো ও গবেষণার ক্ষেত্রে সমস্যায় ভুগছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই পরিস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২৫০ কোটি টাকা অনুমোদন এবং ‘পিএম ঊষা’ প্রকল্পের অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে কর্তৃপক্ষ। তাদের আশা, এই অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে গবেষণা—সব ক্ষেত্রেই নতুন গতি আসবে। তবে তার আগেই কমিটি গঠন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।