উপনির্বাচনের আগে ফের প্রতীক-জট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দু’দশকের পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, তখন এ বার কমিশনের নজরে হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ও। সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলটিকে দেওয়া ‘বাঁশি’ প্রতীক ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে তুলে নেওয়া হতে পারে। তার পরিবর্তে ‘টেবিল’ প্রতীক দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে বড় চমক দিয়েছিল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। মুর্শিদাবাদের এই কেন্দ্র একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এ বার ভোটে কংগ্রেস নেমে যায় চতুর্থ স্থানে। ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটে জয় পান হুমায়ুন কবীর। একই সঙ্গে নওদা কেন্দ্র থেকেও জয় পেয়েছিলেন তিনি। পরে রেজিনগর বিধানসভা আসন থেকে পদত্যাগ করেন হুমায়ুন। তাঁর পদত্যাগের জেরেই আগামী ৬ অক্টোবর এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন।
এ বার রেজিনগরে হুমায়ুনের দল প্রার্থী করেছে তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদকে। ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির, কংগ্রেস এবং সিপিএমও। ফলে ভোটের লড়াই ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে কালিঘাট তৃণমূল তৃতীয় স্থানে ছিল। সে বার সিপিএম প্রার্থী দেয়নি। আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দিয়েছিল তারা। এ বার অবশ্য বাম দল সরাসরি লড়াইয়ে রয়েছে।
এর মধ্যেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীক বদলের সম্ভাবনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভোটের অঙ্কে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে যে ‘বাঁশি’ প্রতীকে হুমায়ুন কবীরের দল লড়েছিল, উপনির্বাচনে সেটি থাকছে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে সংশয়। কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রতীক বদল হলে নতুন প্রতীক নিয়ে প্রচারে নামতে হবে দলটিকে।
শুধু প্রতীক-জট নয়, ভোটের আগে পুলিশি হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, দলের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরে রেজিনগরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
অন্য দিকে, নাম ও প্রতীক হারানোর কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও যুক্ত করেছেন তিনি। শীঘ্রই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হতে পারে।
রেজিনগরে ভোট ৬ অক্টোবর। ফল ঘোষণা ৯ অক্টোবর। তার আগে কমিশন প্রতীক নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন নজরে।




