• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 19 September, 2026

‘রোবসপিয়েরের মতো পরিণতি?’ ওবায়দুলের ভাষণে তারেক-ইউনূসকে ঘিরে তীব্র ইঙ্গিত

শুক্রবার রাতে দিল্লিতে শেখ হাসিনার ডাকা বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাষণ ঘিরে দলের অন্দরে

‘রোবসপিয়েরের মতো পরিণতি?’ ওবায়দুলের ভাষণে তারেক-ইউনূসকে ঘিরে তীব্র ইঙ্গিত

pic-x

শুক্রবার রাতে দিল্লিতে শেখ হাসিনার ডাকা বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাষণ ঘিরে দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। চোখের ছানি অস্ত্রোপচার হওয়ায় তিনি নিজে দিল্লিতে যেতে পারেননি। তবে অনলাইনে দীর্ঘ ভাষণে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত—একাধিক বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

দিল্লিতে সদ্য শেষ হওয়া ব্রিকস সম্মেলন এবং মক্কা চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদেরের দাবি, বাংলাদেশ ক্রমশ আন্তর্জাতিক পরিসরে একঘরে হয়ে পড়ছে। ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও দেশের পক্ষে ক্ষতিকর বলে ব্যাখ্যা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

২০২৪ সালের অগস্টের পর বাংলাদেশের নতুন দুই বন্ধু পাকিস্তান ও তুরস্কের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য, পাকিস্তান গোটা বিশ্বের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতছে। অন্য দিকে তুরস্কের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও এতটাই সঙ্কটজনক যে সেখানকার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সোনা বিক্রি করতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই দুই দেশকেই বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমান।

ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ‘শব্দের শক্তি’ এবং ভাষা সংযমের প্রসঙ্গ। ওবায়দুল কাদের বলেন, কথা যেমন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে, নেতৃত্ব দিতে পারে, তেমনই সর্বনাশও ডেকে আনতে পারে। এই প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, সেই ভাষণ সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে মুক্তির পথে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল।

এর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ ভাষণের কথাও উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তাঁর বক্তব্য, ইতিহাসে এমন বহু ভাষণ রয়েছে, যা একটি জাতির গতিপথ বদলে দিয়েছে। একই সঙ্গে ফরাসি বিপ্লবের নেতা ম্যাক্সিমিলিয়েন রোবসপিয়েরের কথাও টেনে আনেন তিনি।

বাংলাদেশের ‘জুলাই-অগস্ট বিপ্লব’-পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোবসপিয়েরের রাজনৈতিক পরিণতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য, বিপ্লবকে রক্ষা করার নামে রোবসপিয়ের যে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবস্থাই তাঁর পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিরোধীদের গণহারে গিলোটিনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে পর্ব শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত রোবসপিয়েরকেই গিলোটিনের সামনে দাঁড় করায়।

এই প্রসঙ্গেই বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। নাম না করে তারেক রহমান ও মুহাম্মদ ইউনূসকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্যের প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরে তাঁদের রোবসপিয়েরের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার দিকে এগোয়, একসময় তা নিজের স্রষ্টাদের বিরুদ্ধেই ফিরে আসতে পারে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর ভাষণে। চলতি সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ওবায়দুল কাদের-সহ সাত আওয়ামী লীগ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর একই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।

তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক বক্তব্যের শেষাংশে দলীয় নেতাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন ওবায়দুল কাদের। তাঁর বক্তব্য, এমন কোনও কথা বলা যাবে না, যা দলের বিপদ ডেকে আনে বা দেশের ক্ষতি করে। দল এবং দেশের স্বার্থ—দুটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাদের ভাষা ব্যবহারে আরও সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন।