• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 18 September, 2026

বৈভবকে কেন খেলালেন না গম্ভীর? আফগানিস্তান সিরিজ শেষে সোজাসাপ্টা জবাব গৌতম গম্ভীরের

গম্ভীরের ব্যাখ্যা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের কম্বিনেশনে ফিরতে চেয়েছিল ভারত। তাঁর বক্তব্য, কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেই কোনও ক্রিকেটার খারাপ হয়ে যান না।

বৈভবকে কেন খেলালেন না গম্ভীর? আফগানিস্তান সিরিজ শেষে সোজাসাপ্টা জবাব গৌতম গম্ভীরের

File Photo

১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে কৌতূহল কিছুতেই কমছে না। তাঁর খেলা নিয়ে যেমন কৌতুহল থাকে, তিনি না খেললেও অনেকের কৌতুহল বাড়ে, কেন খেলছেন না। আইপিএলে ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অভিষেক হয়ে গিয়েছে তাঁর। কিন্তু আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে একটি ম্যাচেও প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি। এই নিয়ে কম কৌতুহল নেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।

অনেকেরই এই প্রশ্ন ছিল, কেন একটা ম্যাচেও খেলানো হল না বিস্ময় বালককে। ভারত সিরিজ ৩-০ জেতার পর সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর। তাঁর সাফ কথা, বৈভবকে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

গম্ভীর বলেন, ‘বৈভবের সঙ্গে খুব পরিষ্কার কথা হয়েছে—ওকে ওর সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমরা জানি ওর মধ্যে কী ধরনের প্রতিভা রয়েছে এবং ও কী করতে পারে। কিন্তু যে ক্রিকেটার গত দু’-তিন বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে পারফর্ম করছে, সে সব সময় এমন একজনের আগে থাকবে, যে সবে দলে এসেছে’।

তবে সুযোগ এলে বৈভবকে দীর্ঘ সময় খেলানোর আশ্বাসও দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, ‘যখন ওর সুযোগ আসবে, তখন ওকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সুযোগ দেওয়া হবে। ভারতীয় ক্রিকেটে আমরা দলে প্রতিযোগিতা এবং প্রতিভা চাই। কিন্তু ক্রিকেট এমনই। আপনি ১৫ বছরের হন বা ৩০ বছরের, সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হলে অপেক্ষা করতেই হবে’।

আফগানিস্তান সিরিজে বৈভবের জায়গায় ওপেন করেছেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। শেষ ম্যাচে সঞ্জু ৩৫ বলে ৫০ রান করেন। গোটা সিরিজে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১১৭ রান। অন্য দিকে দিল্লিতে অভিষেক মাত্র ৩৪ বলে ১০৮ রান করে ভারতকে ২২১/৭-এ পৌঁছে দেন। ভারত ম্যাচটি জেতে ১২৭ রানে।

সঞ্জুকে নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন গম্ভীর। ইংল্যান্ড সিরিজে তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে কঠিন ছিল, সেটাও স্বীকার করেছেন ভারতীয় কোচ।

গম্ভীরের কথায়, ‘সঞ্জুর প্রতিভাই ওর দলে থাকার জন্য যথেষ্ট। ও কী করতে পারে, সেটা ও দেখিয়েছে। কোনও ক্রিকেটার সেই প্রতিভা ছাড়া বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা হতে পারে না। ও যথেষ্ট করেছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভবত আমার কোচিং জীবনে সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল ইংল্যান্ড সিরিজে সঞ্জুকে বাদ দেওয়া। তার আগে ও যে ভাবে খেলেছিল, সেটা বিবেচনা করলে সিদ্ধান্তটা সত্যিই কঠিন ছিল’।

তবে কেন সঞ্জুকে ফেরানো হল? গম্ভীরের ব্যাখ্যা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের কম্বিনেশনে ফিরতে চেয়েছিল ভারত। তাঁর বক্তব্য, কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেই কোনও ক্রিকেটার খারাপ হয়ে যান না।

‘এই সিরিজে শুরু থেকেই আমরা পরিষ্কার ছিলাম যে বিশ্বকাপে যে কম্বিনেশন নিয়ে খেলেছিলাম, সেটাতেই ফিরতে চাই। কারণ, তিন-চারটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেই এই ক্রিকেটাররা খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যায় না,’ বলেন গম্ভীর।

তাঁর সংযোজন, ‘একটি দল যদি একটি বিশ্বকাপ থেকে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ জেতে, তা হলে সেটা খুব শক্তিশালী দল। হঠাৎ দু-একটি সিরিজের পরে সেই দল খারাপ হয়ে যায় না। দু’-তিনটি ব্যর্থতার পরে এই ক্রিকেটাররাও খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যায় না’।

আফগানিস্তানকে ৩-০ হারানোর পর এখন ভারতের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ। সেই দলে এশিয়ান গেমসের কারণে কয়েক জন নিয়মিত ক্রিকেটার না থাকায় তরুণদের সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে। গম্ভীর জানিয়েছেন, অকিব নবি এবং নমন ধীরের মতো ক্রিকেটারদের জন্য এই সিরিজ নিজেদের প্রমাণ করার মঞ্চ হতে পারে।

অর্থাৎ বৈভবের দরজা বন্ধ নয়— বরং গম্ভীরের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় সুযোগ। আপাতত ১৫ বছরের বিস্ময়-প্রতিভাকে দিতে হবে ধৈর্যের পরীক্ষা। আর সেই অপেক্ষার মধ্যেই এশিয়ান গেমসে তাঁর সামনে রয়েছে ভারতীয় জার্সিতে নিজেকে ফের প্রমাণ করার সুযোগ।