• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 18 September, 2026

‘ভোট চুরি, সরকার চুরির পর এখন দল চুরি’, বিজেপি-নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে মমতার পাশে রাহুল

গতকাল রাতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা কেসি বেনুগোপালও নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে নিশানা করেছেন

‘ভোট চুরি, সরকার চুরির পর এখন দল চুরি’, বিজেপি-নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে মমতার পাশে রাহুল

Mamata Banerjee-Rahul Gandhi Photo-SNS

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম-প্রতীক উপনির্বাচনের প্রাক্কালে ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির প্রাঙ্গণ তোলপাড় হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই শিবিরকে জমা দিতে হয়েছে নতুন দলের নাম প্রতীক। এখন সবটাই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। এই পদক্ষেপ করার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসে দাঁড়াল কংগ্রেস। কেসি বেনুগোপাল থেকে শুরু করে খোদ রাহুল গান্ধী বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এখন দাঁড়িয়েছেন। এমনকী সমাজবাদী পার্টি-সহ অন্যান্য বিজেপি বিরোধী দলগুলি মমতাকেই সমর্থন করেছে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি লোকসভার বিরোধী দলনেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। উপনির্বাচনে জোট না হওয়া নিয়ে মমতা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বিপদের দিনে সব বিরোধী দলই পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে সিপিএম ছাড়া। এই পদক্ষেপ নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে বিঁধে রাহুল গান্ধীর তোপ, ‘শিবসেনা ও এনসিপির ক্ষেত্রে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, এবার তৃণমূলের ক্ষেত্রেও একই ধারা বজায় রাখল নির্বাচন কমিশন। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে দল ভাঙার পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং পরে দলের নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’

 

গতকাল রাতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা কেসি বেনুগোপালও নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে নিশানা করেছেন। আর শুক্রবার সমাজমাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে ছত্রে ছত্রে বিঁধেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘ভোটচুরি, সরকারচুরির পর দলচুরি। এটাই আমাদের গণতন্ত্রের অধোগতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। যখন গোটা একটি দলকেই হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ভোটও যে চুরি হতে পারে, তাতে আর অবাক হওয়ার কী আছে! জনগণের রায়কে মান্যতা দেওয়া তাদের দায়িত্ব। অথচ বাস্তবে তারা সেই সব শক্তিকেই সহায়তা করছে, যারা জনগণের রায়কেই নস্যাৎ করে দেয়।’

তাছাড়া রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে কংগ্রেসকে। ৪ মে তারিখের পর মমতা এবং অভিষেক নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন। তখন গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল তাঁদের কংগ্রেসে ঘর ওয়াপসি নিয়ে। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকও হয়। যদিও তেমন কিছু ঘটেনি। এদিন সমাজমাধ্যমে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন যা করল সেটা মেনে নেওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একার নয়। এই লড়াই দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের, প্রতিটি সেই ভোটারের, যিনি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন চান।’