• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 15 September, 2026

যন্তরমন্তরে হামলা, পরে পডকাস্টে বিস্ফোরণ: পকসো মামলায় অভিযুক্ত সেই স্বতন্ত্র ভারদ্বাজও পেয়ে গেল জামিন

তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন বিতর্কিত হিন্দুত্ববাদী নেট-প্রভাবী স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। যন্তরে মন্তরে গুন্ডামি, পরে পডকাস্টে দাম্ভিক বিস্ফোরণ এবং গ্রেপ্তারি, জানুন বিশদে...

যন্তরমন্তরে হামলা, পরে পডকাস্টে বিস্ফোরণ: পকসো মামলায় অভিযুক্ত সেই স্বতন্ত্র ভারদ্বাজও পেয়ে গেল জামিন

Swatantra Bhardwaj (Screengrab from YT podcast)

জুন মাসের একটা প্রতিবাদ। যন্তর মন্তরের (Jantar Mantar) রাস্তায় হাতাহাতি। আর তারপর একটা পডকাস্টের (Podcast) ভিডিও, যা আগুনের মতো ভাইরাল সমাজমাধ্যমে। মঙ্গলবার সেই মামলাতেই বড় স্বস্তি পেল অভিযুক্ত স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ (Swatantra Bhardwaj)। যে নিজেকে স্বঘোষিত সনাতনী সেনা বলে দাবি করে। দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট (Patiala House Court) তাকে তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন (Interim Bail) দিয়েছে। অতিরিক্ত দায়রা বিচারক সৌরভ প্রতাপ সিংহ লেলর এই নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও রায়ের সবিস্তার বিবরণ এখনও প্রকাশিত হয়নি।

কী ঘটেছিল

গত ২৩ জুন। ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janta Party, সংক্ষেপে CJP) বিক্ষোভ চলছিল যন্তর মন্তরে। সেই বিক্ষোভের মধ্যেই এক নাবালিকা পড়ুয়া নিশু আজাদের (Nishu Azad) বাবা সঞ্জয় কুমারের (Sanjay Kumar) মাথায় আঘাত লাগে। অভিযোগ, স্বতন্ত্র স্টিলের বালা বা কড়া দিয়ে আঘাত করে তাঁকে। দিল্লি পুলিশ প্রথমে জানিয়েছিল, আঘাত সামান্য, মাথার খুলি ফাটার কোনও প্রমাণ নেই। আরএমএল হাসপাতালে (RML Hospital) চিকিৎসকরাও নাকি তেমনটাই জানান।

ঘটনার দিন সঞ্জয়ের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ ওঠে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ ও সুরজ কুমারের বিরুদ্ধে। দু’জনকেই ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল সেই সময়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পডকাস্টই কাল হল

আসল মোড় ঘোরে সেপ্টেম্বরের শুরুতে। একটি পডকাস্টে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে গর্ব করে বলতে শোনা যায়, সে সঞ্জয়ের মাথার খুলি ফাটিয়ে দিয়েছিল, ৬০টা সেলাই পড়েছিল, আর রাজনৈতিক যোগাযোগের জোরেই তাকে জেলে যেতে হয়নি। হিন্দুত্ববাদী নেট-প্রভাবী (Influencer) স্বতন্ত্র নিজেকে বলেন সনাতনী যোদ্ধা।

এই ভিডিও ভাইরাল হতেই ফুঁসে ওঠে সিজেপি (CJP) ও বিরোধীরা। ৪ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার (Parliament Street Police Station) সামনে বিক্ষোভে সামিল হন সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস, সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা, স্বয়ং নিশু আজাদ ও তাঁর আহত বাবা। পাশে দাঁড়ান আজাদ সমাজ পার্টির প্রধান, সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ (Chandrashekhar Azad) এবং পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব (Pappu Yadav)। চাপের মুখে পুলিশ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারির আশ্বাস দেয়।

শেষরক্ষা হয়নি

আশ্বাস দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে (Bulandshahr) ধরা পড়ে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। অভিযোগ, পরিচয় লুকোতে হেলমেট পরে বুলেট মোটরবাইকে চেপে নৈথলা গ্রাম থেকে খুর্জার দিকে পালানোর চেষ্টা করছিল সে।

নিশু আজাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক একটি পকসো (POCSO) মামলাও রুজু হয় তার বিরুদ্ধে, অনলাইনে ধর্ষণের হুমকি ও হেনস্থার অভিযোগে। যদিও আদালতে স্পষ্ট করা হয়, ধর্ষণের হুমকি সংক্রান্ত মামলায় নয়, এসসি/এসটি আইনের মামলাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ভরদ্বাজকে। দু’টি এফআইআর একসঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ায় আদালত বন্ধ ঘরে অর্থাৎ ইন ক্যামেরা (In-camera) শুনানির সিদ্ধান্ত নেয়।

গ্রেপ্তারি চ্যালেঞ্জ করে হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus) আর্জিও জানিয়েছিল ভরদ্বাজ। দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) সেই আর্জি খারিজ করে দেয়।

এবার মিলল রেহাই

৩ সেপ্টেম্বর থেকে হেফাজতে থাকা স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের নিয়মিত জামিনের (Regular Bail) আর্জিও আদালতে বিচারাধীন। সেই মামলায় রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত। তারই মধ্যে মঙ্গলবার তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে এই স্বস্তি সাময়িক। মূল মামলার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত, আর রাজনৈতিক তরজাও থামার লক্ষণ নেই।

রাজনীতির রং স্পষ্ট

লক্ষ্যণীয়, পুরো ঘটনায় শুরু থেকেই সক্রিয় থেকেছেন দুই সাংসদ, চন্দ্রশেখর আজাদ ও পাপ্পু যাদব। দলিত রাজনীতির প্রতীক হয়ে ওঠা চন্দ্রশেখরের হস্তক্ষেপেই এসসি-এসটি আইনের ধারা যুক্ত হয় বলে দাবি। উল্টোদিকে ভরদ্বাজ নিজেকে তুলে ধরেছে হিন্দুত্ববাদী নেটপ্রভাবী হিসেবে, পডকাস্টে দাবি করেছিল রাজনীতির প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগযোগের কথাও। ফলে নিম্ন আদালতের জামিনের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে আরেকটা আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।