আবার পুলিশ হেপাজতে বন্দির মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল। যা নিয়ে সোমবার সকাল থেকে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পুলিশ হেপাজতে থাকাকালীন অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। থানার শৌচাগার থেকে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় এখন এটাই আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। ওই বন্দিকে ঘাটাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে লাগামছাড়া অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা থানায় এই ঘটনা ঘটেছে।
বন্দির এই মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অত্যাচারের বলি? এই প্রশ্ন এখন উঠতে শুরু করেছে। ওই বন্দির পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে। মৃত বন্দির নাম রাহুল রুইদাস। চুরির অভিযোগে চন্দ্রকোণা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ঘাটাল মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক চারদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেয়। আর তার মধ্যেই পুলিশ হেপাজতে থাকাকালীন থানার শৌচাগার থেকে বন্দির ঝুল্নত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গলায় প্যান্ট পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই বন্দি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হেপাজতে থাকাকালীন রাহুলের উপর অত্যাচার করে মেরে ফেলা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, পুলিশ হেপাজতে থাকাকালীন রবিবার থানার শৌচাগারে যান রাহুল রুইদাস। সেখানে পরনের প্যান্ট গলায় জড়িয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। ওই যুবকের বাড়ি চন্দ্রকোনারই বগেশ্বরপুর এলাকায়। শৌচাগারের ভিতর থেকে একটি শব্দ আসে তখন। তা শুনেই ভিতরে ঢোকে পুলিশ। আর এমন পরিস্থিতি দেখে অচেতন অবস্থায় থাকা ওই যুবক বন্দিকে প্রথমে চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও বন্দির ভাই অভিযোগ করেন, ‘আমার দাদাকে মেরে দিয়েছে। একজন পুলিশ বলছে, প্যান্টের দড়ি গলায় দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আর একজন পুলিশ বলছে, মাথা ঠুকেছে। দুই পুলিশ দু’রকম কথা বলছে।’
তাছাড়া পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, চারদিন আগে রাহুলকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। সিভিক পুলিশকে দিয়ে বাড়িতে ফোন করে সেটা জানানো হয়। দুই পুলিশ অফিসার মৃত্যু নিয়ে দু’রকম কথা বলছেন। একজন পুলিশ অফিসার বলছেন, গলায় প্যান্ট পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে মৃত্যু হয়েছে। আবার অন্য পুলিশ অফিসার বলছেন, মাথা ঠুকে মৃত্যু হয়েছে। একটা প্যান্টের সাহায্যে কেউ কীভাবে আত্মহত্যা হতে পারে? উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে কাঁচরাপাড়া পুরসভার পদত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামীর মৃত্যুও হয়েছিল পুলিশ হেপাজতে।




