তৃণমূল তুমি কার? ঘাসফুল তুমি কার? এই প্রশ্নের উত্তরে সম্ভবত ইতি পড়তে চলেছে। কারণ দু’পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করার পর নির্বাচন কমিশন রাতে চিঠি পাঠাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু ঋতব্রত শিবিরকে কোনও চিঠি পাঠায়নি নির্বাচন কমিশন। আর তাতেই গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, ঘাসফুল প্রতীক এবং তৃণমূল কংগ্রেস নামটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই আসতে চলেছে। তবে সব যদি ঠিকঠাক থাকে। অর্থাৎ আইন এবং সংবিধান মেনে যদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাহলে তৃণমূলের প্রতীক বিতর্কের প্রথম রাউন্ডে সম্ভবত জিততে চলেছে কালীঘাট তৃণমূলই। আর তা যদি হয় তাহলে রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনে ঘাসফুল প্রতীকে মমতার দলই লড়বে। নির্বাচন কমিশন এখনও কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেওয়ায় এই দাবি করছে কালীঘাট শিবির।
এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন তাতে আগামী বুধবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। দলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতীক বিতর্কে মমতার আর কিছু বলার আছে কিনা এবং আর কোনও নথিপত্র জমা দিতে চান কিনা সেটা বুধবার দিনের মধ্যে জানাতে হবে। তার পর প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন আবার শুনানির আয়োজন করবে। ঋত শিবিরের জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে আগামী ১৬ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর আবার তলব করা হয়েছে কালীঘাট শিবিরকে। সমাজমাধ্যমে সেই তলবের কথা জানিয়েছেন কালীঘাট শিবিরের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে আগামী ১৬ ও ১৭ তারিখ তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে আবার তলব করা হয়েছে। তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন ওইদিনের আগে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেবে না। আর নির্বাচন কমিশন কোনও নির্দেশ না দেওয়ার অর্থ ‘স্টেটাস কো’ বজায় থাকবে। তাতে কালীঘাট শিবির যেহেতু শেষবার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের চেয়ারপার্সন হিসাবে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক বিলি করেছিলেন তার ফলে উপনির্বাচনেও দলের প্রতীকের অধিকার তাঁরই থাকবে। এই দাবি করেছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি, যেহেতু ১৬ তারিখ উপনির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ার শেষ তারিখ সেহেতু উপনির্বাচনে প্রতীক তাঁদের দখলেই থাকবে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টে নাগাদ ডাকা হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসকে। দরকার পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বরও আবার শুনানি হতে পারে।
তাছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে চিঠি নির্বাচন কমিশন দিয়েছে তাতে সমস্ত বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ঋতব্রত শিবির নথি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিবকে উদ্দেশ্য করে। সেখানে ১১ সেপ্টেম্বর ঋতব্রতের লেখা একটি চিঠি, ১২ সেপ্টেম্বর একটি ইমেল এবং তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আলিপুর আদালতের ৭ জুলাই, ৩ আগস্ট ও ৬ আগস্টের নির্দেশের কপি। আর ১২ তারিখ নির্বাচন কমিশনের সচিবকে উদ্দেশ্য করে লেখা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের চিঠি। এমনকী ৫ জুনের একটি খবরের অংশও নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে ঋত শিবির। যার শিরোনাম— ‘তৃণমূলকে ঢেলে সাজলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’। এইসব নথি দেখার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যদি কিছু বলার থাকে বা নথি দেওয়ার থাকে তাহলে তা পেশ করতে বলা হয়েছে। তবে সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশন ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টে নাগাদ নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে একটি শুনানি ডেকে সমস্যার ফয়সালা করে দেবে। এমনকী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন সদন।




