এজবাস্টনে পাকিস্তানকে তৃতীয় টেস্টে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ ৩-০ জিতে নিল ইংল্যান্ড। তবে টানা তিন টেস্ট জয়ের পরেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) পয়েন্ট তালিকায় জায়গা বদল হল না ইংল্যান্ডের। ছ’নম্বরেই রয়ে গেলেন জো রুটেরা। তবে সিরিজ জয়ের ফলে তাদের পয়েন্ট শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৮.৫৪। অন্য দিকে, ইতিমধ্যেই নয় দলের তালিকার একেবারে নীচে থাকা পাকিস্তানের পয়েন্ট শতাংশ আরও কমে হয়েছে ১৪.৮১।
শনিবার শেষ টেস্টের চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৩০ রান। কিন্তু শুরুতেই চাপে পড়ে যায় তারা। প্রথম ওভারেই বেন ডাকেট এবং এমিলিও গে-কে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ আব্বাস। প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারলেও জো রুটও শুরুতে খুব স্বচ্ছন্দে ছিলেন না।
তবে অভিজ্ঞ ইংরেজ ব্যাটার দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেন। ৫৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রুট। তাঁর সঙ্গে জর্ডান কক্সও দারুণ ব্যাট করেন। শেষ পর্যন্ত ২৫ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। রুট ৬২ এবং কক্স ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
শুক্রবারই ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের হয়ে প্রথম টেস্ট খেলা পেসার রাজাউল্লাহ ব্যাট হাতে অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২১ বছরের এই ন’নম্বর ব্যাটার মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ন’টি ছক্কা। এর আগে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে চার উইকেটও নিয়েছিলেন তিনি।
আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে নবম উইকেটে ১২১ রানের জুটি গড়েন রাজাউল্লাহ। আব্বাস করেন ৪২ রান। তাঁদের লড়াইয়ে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত তা পাকিস্তানকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।
হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, ‘প্রথম ওভারেই দু’টি উইকেট পাওয়ায় আমাদের বিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওরা খুব ভাল খেলেছে’।
দলে স্পিনার না থাকায় কোনো সমস্যা হয়েছে বলে মনে করেন না বাবর। বলেন, ‘পিচে ঘাস ছিল, পরিস্থিতিও পেসারদের জন্য উপযুক্ত ছিল। তাই আমরা তিন জন ফাস্ট বোলার নিয়ে খেলেছিলাম’। রাজাউল্লাহ সম্পর্কে অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা ওর পারফরম্যান্স উপভোগ করেছি, দলের প্রত্যেকেই করেছে। ও খুব ভাল প্রতিভা। ওর জন্য যেমন ভাল, আমাদের জন্যও এটা ভাল খবর। সত্যি বলতে ওর সম্পর্কে, খুব বেশি জানতাম না। ওর ব্যাটিং সম্পর্কে জেনেছি, কারণ পেশোয়ারের হয়ে ও ওপেনার হিসাবে খেলেছিল’।
নিজেদের দল নির্বাচন নিয়ে বাবর বলেন, ‘ইংল্যান্ডে আসার আগে আমাদের দল নিয়ে ভাবতে হয়েছিল এবং কয়েকটি পরিবর্তনও করেছিলাম। ইংল্যান্ডের পরিবেশে ব্যাটারদের পাশাপাশি ফাস্ট-বোলিং বিভাগেও কঠিন চ্যালেঞ্জ থাকে। আমাদের এখন বসে নিজেদের ভুলগুলো খুঁজে বার করতে হবে এবং তার পর নিজেদের সেরা একাদশ কী হতে পারে।
তিন ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানের পতনের ছবিটা আরও স্পষ্ট। প্রথম টেস্টে এক ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারের পর তৃতীয় ম্যাচেও হারতে হল তাদের। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে বড় হারের পর পাকিস্তান সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল এবং সাত জন নতুন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হয়েছিল। সেই অস্থিরতার মধ্যেই কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং সহকারী কোচ উমর গুলকেও ছাঁটাই করা হয়।
অন্য দিকে, কয়েক সপ্তাহ আগেও নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হার এবং ব্রেন্ডন ম্যাকালাম ও বেন স্টোকসের বিদায়ের পরে চাপে ছিল ইংল্যান্ড। পাকিস্তানকে ৩-০ হারিয়ে সেই দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ফিরল। তবে তাদের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং তার পর ঘরের মাঠে অ্যাশেজ।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট বলেন, ‘স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যে দিয়ে নতুন একটা যুগের সূচনা হচ্ছে। তবে ব্রেন্ডন (ম্যাকালাম) এবং বেন (স্টোকস) এর আগে যে কাজটা করে গিয়েছে, সেটা ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছনো আমাদের পক্ষে সম্ভব হত না। আমরা নিজেদের আরও উন্নত করার এবং সময়ের সঙ্গে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাব’।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে তাই ইংল্যান্ডের অবস্থান খুব একটা বদলায়নি, কিন্তু পাকিস্তানের সংকট যে আরও গভীর হল, এজবাস্টনের ফলাফল তা স্পষ্ট করে দিল।




