• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 9 September, 2026

নন্দীগ্রাম-রেজিনগর উপনির্বাচনে নির্দল প্রার্থী ঋত শিবিরের! ফয়সালার অপেক্ষায় মমতা

অন্যদিকে আখরুজ্জামান বুধবার জানান, দুই কেন্দ্রেই তাঁরা প্রার্থী দেবেন। দলের জেলা নেতৃত্বের কাছে প্রার্থীদের নাম চাওয়া হয়েছে

নন্দীগ্রাম-রেজিনগর উপনির্বাচনে নির্দল প্রার্থী ঋত শিবিরের! ফয়সালার অপেক্ষায় মমতা

Mamata Banerjee-Ritabrata Banerjee Photo-SNS

তৃণমূল কংগ্রেস কার? জোড়াফুল প্রতীক কার? দলের তহবিল কার? এই প্রশ্নগুলি এখন রাজ্য-রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কারণ সামনেই নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচন রয়েছে। সেখানে বিজেপি কাদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে? এই প্রশ্নও বেশ চাপের। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল এই দু’ভাগে বিভক্ত। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও ফয়সালা করেনি। যদিও কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসই যে আসল তার নথিপত্র জমা পড়েছে। সেখানে পিছিয়ে ঋত শিবির। বারবার সময় চেয়েও নথি জমা দিতে পারেনি। এবার উপনির্বাচন দুয়ারে কড়া নাড়ছে বলে ঋত শিবির বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ঋত শিবির।

এদিকে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রথমবার ভোটে সম্মুখসমরে নামতে চলেছে তৃণমূলের দুই শিবির। কালীঘাট তৃণমূল যে ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকে এই দুই কেন্দ্রেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সেটা প্রত্যাশিতই ছিল। এবার ঋতব্রত শিবির উপনির্বাচনে লড়াইয়ের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দিল। যদি একান্তই তৃণমূলের প্রতীক না মেলে, তাহলে নির্দল হিসাবে লড়াই করার প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে ঋত শিবির। বিধানসভায় বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান এদিন সেরকমই জানালেন। কিন্তু শেষ চেষ্টা করে দেখতে চাইছে ঋত শিবির। আর তাই দলীয় প্রতীকের দাবিতে বুধবারই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঋতব্রত শিবিরের নেতৃত্বাধীন বিধায়কদের অংশ।

অন্যদিকে আখরুজ্জামান বুধবার জানান, দুই কেন্দ্রেই তাঁরা প্রার্থী দেবেন। দলের জেলা নেতৃত্বের কাছে প্রার্থীদের নাম চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সেই নাম ঘোষণা করা হবে। আখরুজ্জামান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নামেই আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকেই আমাদের প্রার্থীরা মনোনয়ন দেবেন। তবে যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন আমাদের তৃণমূল প্রতীক না দেয়, তাহলে প্রার্থীরা নির্দল হিসাবে নির্বাচন কমিশন যে প্রতীক দেবে সেটাতেই লড়াই করবেন।’ আইন অনুযায়ী তৃণমূলের প্রতীক যে তাঁদের পাওয়ার কথা নয় সেটা বিলক্ষণ জানেন ঋত শিবিরের বিধায়করা। তাই এতদিন পর এমন মন্তব্য করা হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৯ অক্টোবর গণনা ও ফলপ্রকাশ। গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন প্রকাশ পাবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৭ সেপ্টেম্বর স্ক্রুটিনি এবং ১৯ সেপ্টেম্বর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের দিন। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপেক্ষা করে আছেন ফয়সালার। তারপরই পদক্ষেপ করবেন বলে সূত্রের খবর।