• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 7 September, 2026

‘যথেষ্ট হয়েছে’, অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআরে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

আদালত জানায়, তদন্ত চলুক। প্রয়োজনে চার্জশিটও পেশ করুক পুলিশ। কিন্তু এই পর্যায়ে অভিষেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা আদালতের কাছে স্পষ্ট নয়।

‘যথেষ্ট হয়েছে’, অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআরে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

Photo File

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এবং এফআইআর দায়ের নিয়ে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুনানিতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘এবার যথেষ্ট হয়েছে। আমি ক্লান্ত।’ এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে অভিষেকের বিরুদ্ধে পরবর্তী এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ‘ব্ল্যাঙ্কেট ইনজাংশন’ জারি করা হতে পারে বলেও জানাল আদালত।

অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া নতুন মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, তদন্তে পুলিশের কোনও বাধা নেই। কিন্তু এই মুহূর্তে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই সুরক্ষা বহাল থাকবে। পুলিশ তাঁকে নোটিশ দিতে পারবে। তবে তদন্তে সহযোগিতা করতে তাঁকে হাজির হতে হবে।

শুনানির শুরুতেই বিচারপতি বলেন, ‘৪ মে থেকে শুনে আসছি। এবার আমি নির্দেশ দিতে চলেছি।’ আদালত জানায়, সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের সমন্বয় বেঞ্চের আগের নির্দেশের ভিত্তিতে প্রয়োজনে নতুন এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে। আদালতের বক্তব্য, ব্যক্তিগত ভাবে তিনটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে এমন কিছু পাওয়া যায়নি, যার সঙ্গে অভিষেকের সরাসরি যোগ রয়েছে। বিচারপতির প্রশ্ন, ‘কী হচ্ছে? একই ব্যক্তি, যিনি তাঁর কাছে দু’বার নির্বাচনে হেরেছেন, তিনিই বার বার অভিযোগ করছেন! তদন্ত করুন, কিন্তু হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই।’

রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, মামলায় নকল ওষুধের বিষয় রয়েছে। তার প্রেক্ষিতে আদালতের প্রশ্ন, ‘তিনি কি সেই ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছিলেন?’ রাজদীপ মজুমদারের বক্তব্য, অভিযোগকারী একজন ‘হুইসেলব্লোয়ার’। আদালতের পাল্টা প্রশ্ন, ‘এক বছর আগে কেন হুইসেল বাজানো হয়নি?’ আদালত জানায়, তদন্ত চলুক। প্রয়োজনে চার্জশিটও পেশ করুক পুলিশ। কিন্তু এই পর্যায়ে অভিষেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা আদালতের কাছে স্পষ্ট নয়।

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অভিযোগে চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু অনিয়ম বা গাফিলতির কথা থাকতে পারে। ‘প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসায় গাফিলতির মামলা হতে পারে। কিন্তু সেই চিকিৎসাগত গাফিলতির সঙ্গে আবেদনকারীর যোগ রয়েছে, এমনটা প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে না।’ আদালতের আরও প্রশ্ন, তদন্তই যখন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তখন তদন্ত না করেই কীভাবে অভিষেককে অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে?

আরও পড়ুন: সোম থেকে বাড়বে বৃষ্টির দাপট, উত্তর-দক্ষিণে কেমন থাকবে আবহাওয়া?

অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি আদালতকে জানান, শুভেন্দু অধিকারীর মামলায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছিল। অভিষেকের ক্ষেত্রেও মে এবং জুন মাসে আদালত সুরক্ষা দিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই সুরক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই পর পর নতুন এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে। শঙ্করনারায়ণনের দাবি, ১৬টি অভিযোগের মধ্যে সাতটি করেছেন অভিষেকের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাঁর বক্তব্য, এভাবে বার বার মামলা হলে প্রতিটি বিষয় নিয়ে আদালতে আসতে হচ্ছে।