• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 3 September, 2026

গাড়ির ‘পাওয়ার স্টিয়ারিং’ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, মারুতি-সুজুকির বিরুদ্ধে মামলা খারিজ হাইকোর্টের

গাড়ির কোনও বৈশিষ্ট্য নিয়ে ক্রেতার অসন্তোষ বা মতবিরোধ থাকলে তার প্রতিকার ভোক্তা আইন বা দেওয়ানি আইনের মাধ্যমে চাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই বিরোধকে সরাসরি ফৌজদারি মামলায় পরিণত করা যায় না।

গাড়ির ‘পাওয়ার স্টিয়ারিং’ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, মারুতি-সুজুকির বিরুদ্ধে মামলা খারিজ হাইকোর্টের

Image: AI নির্মিত

গাড়ির পাওয়ার স্টিয়ারিংয়ে ‘অটো-রিটার্ন’ বৈশিষ্ট্য নেই। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং সংস্থার সিইও-র বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগে সর্বোচ্চ যা প্রতিফলিত হয়, তা হল একটি ভোক্তা-সংক্রান্ত বিরোধ। কিন্তু তার ভিত্তিতে প্রতারণা বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো ফৌজদারি অপরাধের উপাদান প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্ত এই মামলায় ফৌজদারি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি। আদালতের মতে, কোনও পণ্য নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে সংস্থার বিরোধ হলেই সেটিকে ফৌজদারি অপরাধের চেহারা দেওয়া যায় না।

প্রতারণার অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুরু থেকেই প্রতারণার অভিপ্রায় বা অসৎ উদ্দেশ্যের নির্দিষ্ট উপাদান দেখাতে হয়। মামলার সূত্রে জানা যায়, এক গ্রাহক মারুতি সুজুকি সেলেরিও জেডএক্সআই এমটি (Maruti Suzuki Celerio ZXI MT) গাড়ি কেনার পর অভিযোগ করেন, গাড়িটির পাওয়ার স্টিয়ারিংয়ে প্রত্যাশিত ‘অটো-রিটার্ন’ বৈশিষ্ট্য নেই। তাঁর অভিযোগ ছিল, গাড়ি কেনার সময় এই সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে তাঁকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়।

মারুতি সুজুকির তরফে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়, অভিযোগের বক্তব্য থেকেই প্রতারণা বা ষড়যন্ত্রের অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদান পাওয়া যায় না। গাড়ির কোনও বৈশিষ্ট্য নিয়ে ক্রেতার অসন্তোষ বা মতবিরোধ থাকলে তার প্রতিকার ভোক্তা আইন বা দেওয়ানি আইনের মাধ্যমে চাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই বিরোধকে সরাসরি ফৌজদারি মামলায় পরিণত করা যায় না।

এই যুক্তির সঙ্গে সহমত পোষণ করে হাইকোর্ট জানায়, অভিযোগে এমন কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই যা থেকে প্রাথমিক পর্যায়েই প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়। ফলে ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়া কার্যত আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।

আরও পড়ুন: ৪০০ জনের শর্তে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দকে ধর্নার অনুমতি হাইকোর্টের

হাইকোর্টের এই রায়ের তাৎপর্য হল, কোনও গাড়ি বা পণ্যের গুণমান, বৈশিষ্ট্য কিংবা প্রত্যাশিত পরিষেবা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার বিরোধ থাকলেই তা প্রতারণার ফৌজদারি মামলায় পরিণত হবে না। অভিযোগে অপরাধের মৌলিক উপাদান স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি। ফলে মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং তার সিইও-র বিরুদ্ধে চলা সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি কার্যক্রমে ইতি টানল কলকাতা হাইকোর্ট।