• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 7 September, 2026

গুরুত্বহীন, অথচ আকর্ষণীয় কলকাতা লিগ ডার্বিতে আজ তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার লড়াই

আত্মবিশ্বাসী ইস্টবেঙ্গলের এখন সময়টা ভালো যাচ্ছে বলেই হয়তো তাদের আত্মবিশ্বাসী হেড কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা দলকে কলকাতা ফুটবল লিগের সুপার সিক্সে তুলেছে, তারাই এই লিগের ডার্বিতেও খেলবে

গুরুত্বহীন, অথচ আকর্ষণীয় কলকাতা লিগ ডার্বিতে আজ তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার লড়াই

Photo: Representational Image

সোমবারের ডার্বি (CFL Derby) নাকি গুরুত্বহীন? ডার্বি  (CFL Derby) আবার গুরুত্বহীন হয় নাকি? ডার্বি (CFL Derby) মানেই বাঙালির চতুর্দশ পার্বণ। সেই পার্বণ যখন, যে পরিস্থিতিতেই হোক না কেন, তার গুরুত্ব আবার কখনো কমে?সেই কারণেই তো মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট সোমবার বারাসত স্টেডিয়ামে তাদের পূর্ণশক্তির দল নামাবে বলে ঠিক করেছে।

আত্মবিশ্বাসী ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) এখন সময়টা ভালো যাচ্ছে বলেই হয়তো তাদের আত্মবিশ্বাসী হেড কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা দলকে কলকাতা ফুটবল লিগের সুপার সিক্সে তুলেছে, তারাই এই লিগের ডার্বিতেও (CFL Derby) খেলবে। খেলোয়াড়দের উপর কতটা আত্মবিশ্বাস থাকলে তাদের ওপর এমন আস্থা রাখা যায়। এ জন্যই তো হাবাসকে চাণক্য বলা হয়।

তিনি জানেন, সামনে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বের কঠিন লড়াই, আইএফএ শিল্ডের খেলা, আইএসএল— লম্বা মরসুম। এমন মরসুমের জন্য দলের খেলোয়াড়দের সুস্থ ও তরতাজা রাখতেই হবে। দলের খেলোয়াড়দের যতটা না খাটান তিনি, ততটাই আনন্দে, বিশ্রামেও রাখতে চেষ্টা করেন তিনি। আধুনিক ম্যানেজমেন্টের এটাই যে নিয়ম। পরিশ্রম যেমন করাবেন, তেমন বিশ্রামও দেবেন।

মোহনবাগানের (Mohan Bagan) সামনে এএফসি-র কঠিন লড়াই নেই। শুধু শিল্ড আর আট মাসের আইএসএল। তাই তাদের গ্রিক কোচ প্যানাগিওতিস দিমপেরিস এখনও দলের সিনিয়রদের অনেককেই চাপের ম্যাচে খেলিয়ে আরো ভালো করে তৈরি করতে চান। সোমবারের ডার্বিতে সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগাতে চান তিনি। বিপক্ষে যারাই খেলুক, দলটার নাম তো ইস্টবেঙ্গল এফসি এবং তারা তো সদ্য ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১-এ হারিয়েছে। তাই একটা বদলার মনোভাব নিয়েও মাঠে নামবেন সহাল আবদুল সামাদ, মনবীর সিং, আপুইয়ারা।

মোহনবাগানের (Mohan Bagan) যেমন ডুরান্ড ফাইনালে হারের বদলা নেওয়ার তাগিদ, তেমনই ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) রিজার্ভ দলের খেলোয়াড়দের তাগিদ সবুজ-মেরুন তারকাদের হারিয়ে নিজেদের প্রমাণ করা। তাই তেতে রয়েছেন আকাশ হেমব্রম, অঙ্কন ভট্টাচার্য, গৌরব সাউ, তন্ময় দাস, চাকু মান্ডিরা।

চলতি লিগে সাত গোল করে ফেলেছেন আকাশ। রয়েছে একটি হ্যাটট্রিকও। তিনিই জানালেন, তাঁর পরিবারের সদস্যেরা আসবেন এই ম্যাচ দেখতে। তাঁদের সামনে মেহতাব সিং, শুভাশিস বসু, রাহুল ভেকেদের গড়া দুর্ভেদ্য দেওয়াল ভেঙে গোল করার কঠিন পরীক্ষায় পাস করার জন্য মরিয়া আকাশ। এই প্রথম ডার্বি খেলতে নামছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ২০ বছর পর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ মূলপর্বে ভারত, বাংলাদেশকে হারিয়ে ইতিহাস যুবদের

উল্টোদিকে রয়েছেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি গতবার কলকাতা লিগের ডার্বিতে (CFL Derby) গোল করে ও করিয়ে লাল-হলুদের নায়ক হয়ে উঠেছিলেন। এবার দলবদল করে তিনি মোহনবাগানে। সে জন্য প্রাক্তন দলের সমর্থকদের কাছ থেকে নিয়মতি অনেক গালমন্দ শুনতে হয় তাঁকে। সোমবার মোহনবাগানের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে তাঁকে জবাব দিতে হবে।

প্রতিপক্ষ সিনিয়র খেলোয়াড়দের খেলাবে জেনেও জুনিয়রদের উপরই যে আস্থা রেখেছেন হাবাস, এতেই আকাশরা তেতে গিয়েছেন। তাই নিজেদের প্রমাণ করার জন্য মরিয়া। আক্রমণে মনতোষ মাঝি, তাঁর পিছনে অনন্তু। দুই উইংয়ে বিজয় মুর্মু ও আকাশ। মাঝমাঠ সামলাবেন চাকু মান্ডি, তন্ময় দাসরা আর রক্ষণে অঙ্কন ভট্টাচার্য, মনতোষ চাকলাদার, জয় বাজ, বিক্রম প্রধানদের দেখা যাবে হয়তো। গোলকিপার গৌরব সাউ। এমনই দল খেলানোর ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে লাল-হলুদ শিবির থেকে।

আর এঁদের বিরুদ্ধে খেলবেন কারা? আক্রমণে মনবীর সিং। দুই উইং দিয়ে আক্রমণে উঠবেন কিয়ান নাসিরি ও সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝমাঠে আপুইয়া একাই একশো। তবে তাঁকে সঙ্গ দেবেন তন্ময় ঘোষ। রক্ষণে শুভাশিস, রাহুল, মেহতাবদের সঙ্গে থাকতে পারেন রাজ বাসফোর। তবে গোলে বিশাল কয়েথ নন, দীপ্রভাত ঘোষের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। সারা লিগে তিনিই সবুজ-মেরুনের গোল সামলে এসেছেন। এই দলের কোচ বাস্তব রায় হলেও এই ম্যাচের কৌশল তৈরি করে দিয়েছেন দিমপেরিস। তাই এই ম্যাচের ওপর যে তাঁর নজর থাকবে, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুন: চিনের মাটিতে চিনা জুটিকে হারিয়ে ইতিহাস, চায়না মাস্টার্স সাত্ত্বিক-চিরাগের

এই ম্যাচে হার-জিতের ওপর দুই দলের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হওয়ার নেই। ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) অবশ্য জিতলে লিগ টেবলের শীর্ষে উঠে যাবে। তবে মোহনবাগানের (Mohan Bagan) হারলে বা জিতলেও কোনো পরিবর্তন হবে না, তারা তিন নম্বরেই থাকবে। তবু সমর্থকদের মেজাজ তুঙ্গে। একদল বলছে, তারা জুনিয়রদের নিয়েই কামাল করবে। অন্য দল বলছে, সিনিয়রদের খেলাতে তো কেউ বারণ করেনি, তাই তারা ডুরান্ড ফাইনালে হারের বদলা আজ নিয়েই ছাড়বে।

ডার্বি (CFL Derby) নিয়ে সাজো সাজো রব মফস্বল শহর বারাসতে। পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ স্টেডিয়াম চত্ত্বর। সকাল থেকে কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলতে হচ্ছে শহরবাসীদের। বেলা যত গড়াবে, কিক অফের সময় বিকেল পাঁচটা যত এগিয়ে আসবে, এই শৃঙ্খল তত আঁটোসাঁটো হবে। সব মিলিয়ে হইহই ব্যাপার। কিন্তু একটা ডার্বিতে (CFL Derby) দর্শকসংখ্যা থাকবে মাত্র হাজার দশেক, এটাই যা ঘাটতি। যুবভারতীতে যে শব্দব্রহ্ম ফুটবলারদের রক্তে তোলপাড় তুলে দেয়, সেই শব্দব্রহ্ম এখানে শুনতে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। তবু, ডার্বি (CFL Derby) তো ডার্বিই। সে পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক, যে পরিস্থিতিতেই হোক। ফুল ফুটুক, না ফুটুক, আজ বসন্ত।

 

আজ কলকাতা ফুটবল লিগের ডার্বি শুরু বিকেল পাঁচটায়। সরাসরি দেখা যাবে ‘নাম্বার টেন স্পোর্টস’ অ্যাপে।

দেখুন: