• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 7 September, 2026

বক্স অফিসে একদিকে ‘মির্জাপুর’, অন্যদিকে ‘হনুমান অংশ’! তারকার ঝলকানিকে টেক্কা দিচ্ছে বিশ্বাসের ছবি

বক্স অফিসে এখন যেন অসম লড়াইয়ের মঞ্চ! একদিকে পঙ্কজ ত্রিপাঠি, আলি ফজল, দিব্যেন্দুদের মতো তারকাখচিত ‘মির্জাপুর:

বক্স অফিসে একদিকে ‘মির্জাপুর’, অন্যদিকে ‘হনুমান অংশ’! তারকার ঝলকানিকে টেক্কা দিচ্ছে বিশ্বাসের ছবি

PIC-X

বক্স অফিসে এখন যেন অসম লড়াইয়ের মঞ্চ! একদিকে পঙ্কজ ত্রিপাঠি, আলি ফজল, দিব্যেন্দুদের মতো তারকাখচিত ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’, অন্যদিকে মাত্র ১.৮ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি ‘হনুমান অংশ’। এক ছবির পিছনে জনপ্রিয় সিরিজের বিপুল উন্মাদনা, অন্য ছবির ভরসা আধ্যাত্মিকতা ও দর্শকের বিশ্বাস। অথচ দুই ছবিই আপাতত বক্স অফিসে সাফল্যের নতুন সমীকরণ লিখছে।

মুক্তির পর থেকেই দুরন্ত গতিতে ছুটছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। মাত্র দু’দিনেই ৫০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে ছবিটি ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে। অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর জনপ্রিয় ক্রাইম-থ্রিলার সিরিজের বড়পর্দার রূপান্তর এই ছবি পরিচালনা করেছেন গুরমিত সিং। পুনীত কৃষ্ণের লেখা এবং রিতেশ সিধওয়ানি ও ফারহান আখতারের প্রযোজনায় তৈরি ছবিতে ফের ফিরেছেন দর্শকের প্রিয় চরিত্ররা।

কালীন ভাইয়ার ভূমিকায় পঙ্কজ ত্রিপাঠি, গুড্ডু পণ্ডিতের চরিত্রে আলি ফজল এবং মুন্না ভাইয়ার ভূমিকায় দিব্যেন্দু—তিনজনকে ফের একসঙ্গে পর্দায় পেয়ে উচ্ছ্বসিত দর্শক। সঙ্গে রয়েছেন রসিকা দুগল, শ্বেতা ত্রিপাঠী, রবি কিষাণ, অভিষেক ব্যানার্জি, শ্রিয়া পিলগাঁওকর, হর্ষিতা গৌর ও কুলভূষণ খরবন্দার মতো অভিনেতারাও।

কিন্তু আসল চমক লুকিয়ে রয়েছে অন্য ছবিতে। ‘হনুমান অংশ’ মুক্তির দিন মাত্র প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আয় করেছিল। অথচ ধীরে ধীরে দর্শকের ভিড় বাড়তে থাকে। একসময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, শো-এর পর শো হাউজফুল! ২৬তম দিনে ছবিটির ভারতীয় নিট সংগ্রহ প্রায় ৫৪.১৩ কোটি টাকা ছুঁয়ে যায়। মাত্র ১.৮ কোটি টাকার ছবির এমন দাপট যে বড় বাজেটের ছবিকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে।

ডা. বিশাল চতুর্বেদীর লেখা, পরিচালনা ও প্রযোজনায় তৈরি এই ভক্তিমূলক জীবনীচিত্রের গল্প নিম করোলি বাবার জীবনকে ঘিরে। তাঁর জন্মনাম ছিল লক্ষ্মণ নারায়ণ শর্মা। মায়ের মৃত্যুর পর ঈশ্বরের সন্ধানে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। উত্তর ভারতজুড়ে দীর্ঘ আধ্যাত্মিক যাত্রার পরই তিনি হয়ে ওঠেন নিম করোলি বাবা। ছবিটি তৈরি হয়েছে চতুর্বেদীর বই ‘ডিভাইন ডিট্যুর: দ্যাট চেঞ্জড মাই লাইফ’-এর ভিত্তিতে।

আর এই ছবিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত বিশ্বাস। প্রেক্ষাগৃহে ছবি হাউজফুল হলেও প্রতিটি শোয়ে ফাঁকা রাখা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট আসন—নম্বর ৯। মিরাজ সিনেমাসের পক্ষ থেকে এই আসনটি সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, বিশ্বাস করা হয়, নিম করোলি বাবা নিজেই নাকি ভক্তদের সঙ্গে বসে এই ছবি দেখবেন!

কেন ৯ নম্বর আসন? এর পিছনেও রয়েছে ধর্মীয় ও সংখ্যাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা। প্রচলিত বিশ্বাসে ৯ সংখ্যার সঙ্গে মঙ্গলের যোগ রয়েছে। মঙ্গল শক্তি, সাহস ও উদ্যমের প্রতীক। আর হনুমানের সঙ্গেও এই গুণগুলির গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন ভক্তরা। তাই নিম করোলি বাবার সঙ্গে ৯ সংখ্যার যোগও তৈরি হয়েছে বিশ্বাসের সূত্রে।

এই ব্যতিক্রমী সাফল্য নজর এড়ায়নি চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুভব সিনহারও। ‘মির্জাপুর’ টিমকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, বক্স অফিসের এই ফলাফল আসলে দর্শকের পছন্দের একটি বড় বার্তা। ‘মির্জাপুর’ এবং ‘হনুমান অংশ’—দুটিকেই নিছক আচমকা সাফল্য হিসেবে দেখা বিপজ্জনক।

সব মিলিয়ে বার্তা একটাই—বক্স অফিসে এখন শুধু কোটি কোটি টাকার বাজেট নয়, দর্শকের মন জয় করাটাই আসল। তারকা থাকুন বা না থাকুন, গল্পে যদি আবেগ থাকে, আর সেই আবেগে যদি বিশ্বাসের ছোঁয়া থাকে, তবে ছোট ছবিও বড় ঝড় তুলতে পারে।