আদালতে মামলা করে যাতে সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা বানচাল করা না যায়, সে জন্য অভিনব আইনি পন্থা অবলম্বন করলে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা সিএবি (CAB)। আগামী ২৪ সেপ্টম্বর সিএবি (CAB)-র বার্ষিক সাধারণ সভা। তার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হল শুক্রবার। এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সচিব, যুগ্মসচিব ও অ্যাপেক্স কাউন্সিলের একটি পদের জন্য নির্বাচন হবে এই সভায়। এই তিন পদের জন্য মনোনয়ন জমা করা যাবে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।
এই মনোনয়নপত্রগুলি যাচাই করা হবে ২১ সেপ্টম্বরে। তার পর জানিয়ে দেওয়া হবে, কাদের মনোনয়ন গ্রহন করা হবে। কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে চাইলে পরের দিন, অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর সশরীরে এসে তা করতে হবে। অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বরেই জানা যাবে, কারা কোন পদে লড়াই করবেন।
এ পর্যন্ত সবটাই স্বাভাবিক। প্রতিবারেই এমনই হয়ে থাকে। কিন্তু এর বাইরে যা হয়েছে, তা সিএবি (CAB)-র ইতিহাসে কখনও হয়েছে বলে মনে করতে পারছেন না সিএবি-র বর্ষীয়ান কর্তারা। বার্ষিক সভা নিয়ে কোনো সম্ভাব্য মামলার ওপর ‘ক্যাভিয়েট’ করে রেখেছে সিএবি। যাতে কেউ তাদের না জানিয়ে বার্ষিক সভা নিয়ে কোনো মামলা করতে না পারে। বেনজির এই ক্যাভিয়েট-এর বার্তা পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন অনুমোদিত সংস্থা ও ক্লাবগুলিতে।
আসলে মামলা করে যাতে এ বারের সভা বানচাল করে না দেওয়া হয়, সেই জন্যই এই পন্থা, জানা গিয়েছে সিএবি (CAB) সূত্রে। এর আগে যখন যুগ্মসচিব পদে নির্বাচনের জন্য বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা হয়েছিল, তখন ১৮টি জেলা সংস্থা ও দশটি ক্লাবের পক্ষ থেকে একই বয়ানের চিঠি দিয়ে সেই সভায় প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং সেই চিঠির ধাক্কায় সভা বাতিল করে দিতে বাধ্য হয় সিএবি।
পরে এক জরুরি বৈঠক ডেকে বাদানুবাদের পর সিএবি (CAB) সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, প্রতিনিধিত্বের শর্ত নিয়ে সিএবি (CAB)যা বলছে, সেটাই ঠিক, অভিযোগকারীদের বক্তব্য ভুল। অভিযোগ উঠেছিল ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সের কেউ বা সিএবি (CAB) আধিকারিক হিসেবে ন’বছর কাটিয়ে ফেলা কোনো কর্তা সিএবি (CAB)-র সভায় অংশ নিতে পারবেন না। সিএবি-র শাসকগোষ্ঠি জানায়, বার্ষিক সভায় যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য নয়।
সৌরভ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বার্ষিক সভা নিয়েও যদি কেউ এমনই অভিযোগ করেন, তা হলে তিনি যেন সিএবি (CAB)-র কাছে না এসে আদালতে যান। এ বার সেই আদালতে যাওয়ার রাস্তাকেও কঠিন করে দেওয়া হল ‘ক্যাভিয়েট’ দাখিল করে।
যে কোনও মামলা-মোকদ্দমা, স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত সব বিষয়ে আদালতে ‘ক্যাভিয়েট’ করে রাখল সিএবি (CAB)। এবং তা পাঠিয়ে দেওয়া হল বিভিন্ন ক্লাবে ও অনুমোদিত সংস্থাগুলিতে! সিএবি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নোটিস না পাঠিয়ে কোনও মামলা রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার বিরুদ্ধে করা যাবে না। আদালতে বার্ষিক সভা নিয়ে কোনও রকম স্থগিতাদেশের আবেদনও করা যাবে না। দু’টো ক্ষেত্রেই আগাম নোটিস পাঠাতে হবে সিএবিকে (CAB)।
সিএবি (CAB)-র শাসক গোষ্ঠি এই অভিনব আইনি পন্থা অবলম্বন করায় স্বাভাবিক ভাবেই ধাক্কা খেয়েছে তথাকথিত বিরোধি গোষ্ঠি। তাদের অনেকেই বলতে শুরু করে দিয়েছেন, এটা সিএবি-র অনুমোদিত সদস্যদের স্বাধীনতা ‘খর্ব’ করার প্রয়াস ছাড়া আর কিছু নয়।
সম্প্রতি শোনা যাচ্ছিল, আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অনেকে আসন্ন বার্ষিক সভা ও নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ আনার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাতে সংস্থার ক্ষতি হতে পারে, এই ভেবেই আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই আইনি চাল দিল শাসক গোষ্ঠি।
এর ফলে বার্ষিক সভা নিয়ে জটিলতা আরো বাড়তে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা। কারণ, এ বার তথাকথিত বিরোধি গোষ্ঠিও কোনো পাল্টা আইনি চাল দেওয়ার চেষ্টা করবে। এবং সেই আইনি চালে শাসক গোষ্ঠির ক্যাভিয়েট-কৌশলকে কিস্তিমাত করা যাবে কি না, সেটাই দেখার।
সব মিলিয়ে বাংলার ক্রিকেটের মসনদকে ঘিরে শুরু হয়ে গিয়েছে এমন এক লড়াই, যে লড়াইয়ে এ বার আদালতকেও টেনে আনল রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার বর্তমান শাসকেরা। এ বার এই লড়াই আদালতেই গড়ায়, নাকি সেই পর্যন্ত যাওয়ার আগেই ফয়সালা হয়ে যায়, সেটাই দেখার।
দেখুন:




