• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 5 September, 2026

লাগাতার নো-বল করা ভারতীয় স্পিনারদের শাস্তির দাবি গাভাস্করের

তা হলে উপায় কী? গাভাস্করের প্রস্তাব বেশ কড়া। তাঁর মতে, প্রথম নো-বলের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা করা যেতে পারে

লাগাতার নো-বল করা ভারতীয় স্পিনারদের শাস্তির দাবি গাভাস্করের

Sunil Gavaskar Photo-ANI

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ভারত জিততে না পারার পিছনে একাধিক কারণ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। তবে তাধর মধ্যে ভারতীয় বোলারদের বার বার নো-বল করাটা বিশেষ ভাবে চোখে পড়েছে। আর সেই বিষয়েই এ বার সরব হলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কর। তাঁর সাফ কথা, ‘নো-বল আটকাতে বোলারদের উপর আর্থিক জরিমানা করা উচিত। একই ভুল বার বার হলে জরিমানার অঙ্কও বাড়ানো দরকার। এমনকি প্রয়োজনে বোলিং কোচকেও জরিমানার আওতায় আনা যেতে পারে’।

কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে ভারতীয় স্পিনারদের নো-বল নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। রবীন্দ্র জাদেজা এবং প্রথম টেস্ট খেলা সারাংশ জৈন মিলিয়ে একাধিক বার ক্রিজের লাইন পেরিয়ে যান। পুরো দুই টেস্টের সিরিজে ভারতীয় বোলারদের নো-বলের সংখ্যা দাঁড়ায় ২০। শুধু দ্বিতীয় টেস্টেই জাদেজা এবং সারাংশের নো-বল মিলিয়ে সংখ্যা ছিল ১১।

এই ঘটনা নিয়ে নিজের কলামে গাভাস্কর লিখেছেন, ‘ভারতীয় বোলারদের করা নো-বল নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখা দরকার, কারণ এর ফলে ম্যাচের রং বদলে যেতে পারে। ক্রিকেটে এমন খুব বেশি বিষয় নেই, যা পুরোপুরি খেলোয়াড়ের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ব্যাটারের গার্ড নেওয়া এবং বোলারের নো-বল না করা—এই দু’টি তেমনই বিষয়’।

গাভাস্করের মতে, এখন প্রযুক্তি ও পরিমাপের এত সুযোগ রয়েছে যে বোলারদের পা পিছলে যাওয়ার যুক্তি আর খাটে না। তাঁর বক্তব্য, ‘আজ রান-আপ মাপার জন্য টেপ মেজার পর্যন্ত পাওয়া যায়। তা হলে বোলিং ক্রিজ পেরিয়ে যাওয়ার কোনও অজুহাত থাকতে পারে না’।

নো-বল হলে টেস্ট ক্রিকেটে ফ্রি-হিট দেওয়ার যে ধারণা উঠেছিল, সেটাও পছন্দ হয়নি গাভাস্করের। ভারতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে মজা করে বলেছিলেন, নো-বলের পর ফ্রি-হিটের ব্যবস্থা করা হলে হয়তো বোলাররা আরও সতর্ক হবেন। কিন্তু গাভাস্কর মনে করেন, তাতে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটারদের আরও সুবিধা হয়ে যাবে।

তিনি লিখেছেন, ‘দয়া করে টেস্ট ক্রিকেটে রান করা আরও সহজ করে তুলতে ফ্রি-হিটেখর ব্যবস্থা করবেন না। এমনিতেই এক ওভারে বাউন্সারের সংখ্যা দু’টিতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং বাউন্ডারিও ছোট করা হয়েছে। ফলে রান করা সহজ হয়ে গিয়েছে।’

তা হলে উপায় কী? গাভাস্করের প্রস্তাব বেশ কড়া। তাঁর মতে, প্রথম নো-বলের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা করা যেতে পারে। একই অপরাধ ফের হলে সেই জরিমানার অঙ্ক দ্বিগুণ হবে। শুধু বোলার নন, ভুল চলতে থাকলে বোলিং কোচকেও জরিমানার অংশীদার করার কথা বলেছেন তিনি।

গাওস্করের কথায়, ‘বরং এমন জরিমানা করা হোক, যা পরবর্তি প্রতিটি অপরাধে দ্বিগুণ হবে। তার সঙ্গে জরিমানার অর্ধেক বোলিং কোচকেও দিতে হবে। এই জরিমানার টাকা দিয়ে ছেলেরা দল ছাড়ার আগে শেষ টিম ডিনারের ব্যবস্থা করতে পারে।’

শুধু নো-বল নয়, মাঠে শৃঙ্খলার অন্য ক্ষেত্রেও এমন নিয়ম চালুর পক্ষে গাভাস্কর। তাঁর প্রস্তাব, থ্রো করার সময় ব্যাক-আপ না করা বা মাঠে অন্য কোনও দায়িত্ব ঠিক মতো পালন না করার মতো ভুলের জন্যও জরিমানা করা যেতে পারে। এমনকি দলের সদস্যেরা ভোট দিয়ে ঠিক করতে পারেন, কোন ভুলের জন্য জরিমানা হবে।

গাভাস্করের মতে, এতে শাস্তির পাশাপাশি দলের মধ্যে বন্ধনও বাড়তে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘একে মজার বিষয়ও করা যায়। এতে দলের মধ্যে বন্ধন আরও শক্ত হবে।’

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজ ভারত ১-০ জিতলেও দ্বিতীয় টেস্ট ড্র হওয়ায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারিয়েছে তারা। সেই ম্যাচে বার বার নো-বল করে ভারতীয় বোলাররা যে প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সুযোগ দিয়েছেন, গাভাস্করের চোখে সেটি তাই নিছক ‘ছোট ভুল’ নয়—বরং দ্রুত শুধরে নেওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা।