• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 5 September, 2026

ভুয়ো জিও সিম বিক্রির অভিযোগে যাদবপুরে গ্রেফতার ৩

কলকাতার বুকে বুক ফুলিয়ে প্রতারণার জাল ছড়িয়ে চলেছে প্রতারকেরা। কখনও ভুয়ো পরিচয়, কখনও ভুয়ো নথি, এবার সেই প্রতারণার

ভুয়ো জিও সিম বিক্রির অভিযোগে যাদবপুরে গ্রেফতার ৩

Extortion Syndicate Arrest Photo-Representative

কলকাতার বুকে বুক ফুলিয়ে প্রতারণার জাল ছড়িয়ে চলেছে প্রতারকেরা। কখনও ভুয়ো পরিচয়, কখনও ভুয়ো নথি, এবার সেই প্রতারণার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে জাল সিম কার্ড।

সাইবার অপরাধে ব্যবহারের জন্য ভুয়ো ঠিকানা দেখিয়ে সিম কার্ড বিক্রির অভিযোগে তিন জনকে গ্রেপ্তার করল যাদবপুর থানার পুলিশ।

জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টালে জমা পড়া একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার সেল এবং যাদবপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নজরে আসে ‘মা ভ্যারাইটিজ’ নামে একটি নামী সংস্থার পিওএস, যার পিওএস কোড ৬৬৩১৪৫০১৮। নথিতে ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা হিসেবে ৭/৭১, বাঘাযতীন কলোনি, রিজেন্ট এস্টেট, কলকাতা–৭০০০৯২ উল্লেখ করা হয়েছিল।

পুলিশের দাবি, ওই পিওএস-এর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১৫টি সাইবার অপরাধের অভিযোগের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ওই পিওএস-এর মাধ্যমে অন্তত ১০টি সিম কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।

পরে ঠিকানাটি সরেজমিনে যাচাই করতে গিয়ে পুলিশ দেখে, সেখানে ‘মা ভ্যারাইটিজ’ নামে কোনও দোকান বা প্রতিষ্ঠানই নেই। অর্থাৎ, ভুয়ো ঠিকানা ব্যবহার করে পিওএস-এর অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের সন্দেহ।

তদন্তের পর যাদবপুর থানায় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ১৭৩ নম্বর মামলা রুজু করা হয়।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪), ৩৩৬(৩), ৩১৯(২), ৩৪০(২) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনায় পিন্টু ঘোষ-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, রাহুল আগরওয়ালের নামে পিওএস অনুমোদনের চিঠিতে সই করেছিলেন পিন্টু। ভুয়ো পিওএস তৈরি এবং সিম ইস্যু করার সুবিধার্থে ওই নথিতে সিল ও স্ট্যাম্পও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

গড়িয়াহাটের একডালিয়া প্লেসের ৩৩এ নম্বর ঠিকানায় ‘কমলেশ এন্টারপ্রাইজ’ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়াও রাজীব পাসোয়ান -কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ‘মা ভ্যারাইটিজ’-এর মালিক বাবুসোনা হালদার-এর কাছ থেকে সিম কার্ড সংগ্রহ করে ‘ছোটু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে সেগুলি বিক্রি করতেন রাজীব। এই ঘটনায় বাবুসোনা হালদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনায় আর কারা জড়িত, কীভাবে ভুয়ো পিওএস তৈরি করে সিমগুলি সংগ্রহ ও বিক্রি করা হত এবং শেষ পর্যন্ত ওই সিমগুলি কোন কোন সাইবার অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো চক্রের কার্যপদ্ধতি চিহ্নিত করার পাশাপাশি আরও কোনও সহযোগী রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।