• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 17 June, 2026

আইপিএল ক্রিকেট মর্যাদা হারাচ্ছে বোর্ডকে পরামর্শ সুনীল গাভাসকারের

খেলা বা দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই মাঠে থাকবেন—এই নিয়ম মানা দরকার!’ এই প্রসঙ্গে তিনি এক কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার রিচি বেনোর প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

ফাইল চিত্র

আইপিএল ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা হয়তো বাড়ছে। কিন্তু ক্রিকেটার ও দর্শকদের নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যার ফলে ক্রিকেটের সংজ্ঞা অনুযায়ী খেলা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। অহেতুক খেলা নিয়ে চর্চা হচ্ছে এবং অর্থ ভাণ্ডার ভরছে। আসল লক্ষ্যে পৌঁছনো যাচ্ছে না। এ বিষয়ে নজর রাখলেন ভারতের তারকা ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকার। তিনি জোরের সঙ্গে বলেছেন, ম্যাচ চলছে, কিন্তু মাঠে যেন বাড়তি লোকজনের অযৌক্তিক আনাগোনা। কখনও জল দিতে রিজার্ভ খেলোয়াড় ঢুকছেন, কখনও কৌশল বৈঠকে বাড়ছে ভিড়। এই প্রবণতা ক্রিকেটকে কখনওই বড় জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে না। তাঁর মতে, এর ফলে খেলার গতি কমছে, সময় বাড়ছে এবং নষ্ট হচ্ছে ময়দানের শৃঙ্খলা ।

টি-২০ ফরম্যাটের আসল লক্ষ্য তিন ঘণ্টার মধ্যে ম্যাচ শেষ করা। কিন্তু চলতি মরসুমে একাধিক লড়াই চার ঘণ্টার বেশি গড়াচ্ছে। বেঙ্গালুরু-মুম্বই দ্বৈরথ তো প্রায় চার ঘণ্টা বাইশ মিনিট চলেছে। মন্থর ওভার রেট ঠেকাতে বোর্ড জরিমানা, এমনকি নিষেধাজ্ঞাও চালু করেছে। তবু অবস্থা বদলায়নি। যে কারণে ম্যাচের গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। গাভাসকরের মূল আপত্তি মাঠে অতিরিক্ত লোক ঢোকা নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, খেলা চলাকালীন ১১ জনের বেশি ময়দানে থাকা উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মাঝেমধ্যেই রিজার্ভ খেলোয়াড়রা ঢুকে পড়ছেন! স্ট্র্যাটেজিক টাইম-আউটের সময় তো আরও বেশি ভিড়। যাঁরা ব্যাট করতেও নামেননি, তাঁরাও চলে আসছেন। গাভাসকরের মতে, এটা ঠিক নয়। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘সর্বোচ্চ দুই রিজার্ভ খেলোয়াড় ও দু’জন কোচিং স্টাফ ছাড়া কাউকে মাঠে ঢুকতে দেওয়া অনুচিত!’

ভারতীয় দলের প্রাক্তন তারকা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, মাঠ শুধু খেলার জায়গা নয়, এর একটা আলাদা মর্যাদা আছে। খেলা বা দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই মাঠে থাকবেন—এই নিয়ম মানা দরকার!’ এই প্রসঙ্গে তিনি এক কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার রিচি বেনোর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। যিনি বিশ্বাস করতেন, ময়দানকে পবিত্র জায়গা হিসেবেই দেখা উচিত। এর জন্য অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত বন্ধ করা জরুরি।

শুধু অহেতুক লোক ঢোকা নয়, সময় বাঁচাতেও প্রস্তাব দিয়েছেন সুনীল গাভাসকর। তাঁর মতে, নতুন ব্যাটসম্যান নামতে এখন যে দুই মিনিট সময় দেওয়া হয়, তা কমিয়ে এক মিনিট করে দেওয়া উচিত। কারণ, এখন বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই ডাগআউটে বসে থাকেন। ফলে প্রস্তুতি নিতে অতিরিক্ত সময় লাগার কথা নয়। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাটার প্রস্তুত না হন, তাহলে সতর্কবার্তার পর রান কেটে নেওয়ার মতো শাস্তি প্রণয়ন উচিত । সব মিলিয়ে গাভাসকরের বক্তব্য পরিষ্কার—খেলার গতি ফিরিয়ে আনতে নিয়ম কঠোর করে মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।