শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শেষ হয়েছে সবে। বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও প্রায় নেই। তার মধ্যেই আবার লাল বলের ক্রিকেটে ফিরছেন দেবদত্ত পডিক্কল এবং মহম্মদ সিরাজ। দলীপ ট্রফির ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে তাঁদের খেলতে নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সঙ্গে থাকছেন কেএল রাহুলও। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে চেন্নাইয়ের এম এ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে পূর্বাঞ্চলের বিরুদ্ধে শুরু হবে পাঁচ দিনের ফাইনাল।
পডিক্কল এবং সিরাজ দু’জনেই সদ্য শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজে ভারতীয় দলের অংশ ছিলেন। ভারত সেই সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছে। আর শ্রীলঙ্কার মাটিতে পডিক্কলের ব্যাট যেন অন্য কথা বলছিল। দুই টেস্টে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৩২৮ রান, সঙ্গে রয়েছে দু’টি শতরান। সিরিজ-সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
সিরাজও ছিলেন সেই সিরিজের ভারতীয় দলের অন্যতম পেস অস্ত্র। ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—টেস্ট সিরিজ খেলে এসেই কেন আবার ঘরোয়া ক্রিকেট? বোর্ডের যুক্তি, সেপ্টেম্বরে ভারতীয় টেস্ট দলের আর কোনও ম্যাচ নেই। পরের টেস্ট ম্যাচের আগে ক্রিকেটারদের হাতে বেশ কিছুটা সময় রয়েছে। তাই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ম্যাচ অনুশীলন করিয়ে রাখতেই নির্বাচকেরা দলীপ ফাইনালকে বেছে নিয়েছেন।
বোর্ডের এক সূত্রের বক্তব্য, “রাহুল, পডিক্কল এবং সিরাজ এখনই কোনও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে খেলছেন না। তাই জাতীয় নির্বাচকেরা চান, এই ধরনের ক্রিকেটারদের অবশ্যই দলীপ ট্রফির ফাইনালে খেলা উচিত।” সূত্রটি আরও জানিয়েছে, তিন ক্রিকেটারই শেষ বার ২৭ অগস্ট খেলেছেন। এর পর ভারতের পরবর্তী ম্যাচ ২৭ সেপ্টেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এক দিনের ম্যাচ।
তাদের প্রতিপক্ষ পূর্বাঞ্চল দলে রয়েছেন মহম্মদ শামি এবং তরুণ বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী। নেতৃত্বে ইশান কিষাণ। অর্থাৎ, ফাইনালে দুই দলের তারকা সমাবেশও কম নয়। দক্ষিণাঞ্চল ইতিমধ্যেই উত্তরাঞ্চলকে সাত উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। অধিনায়ক তিলক বর্মার ব্যাটে ছিল পরপর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।
তবে তিলক এবং ইশান আদৌ দলীপ ফাইনাল খেলবেন কি না, তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। দু’জনেই ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অংশ। ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে। বৈভব সূর্যবংশীও সেই দলে রয়েছেন। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।
বোর্ডের সূত্র জানিয়েছে, “ভারতীয় দল যদি ৯ বা ১০ সেপ্টেম্বর দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় এবং কোচ চান যে তিলক, বৈভব ও ইশান দলের সঙ্গে যোগ দিন, তা হলে তাঁরা দলীপ ফাইনালে খেলতে পারবেন না। কিন্তু কোচ যদি চান ওঁরা ফাইনাল খেলুন, তা হলে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে দিল্লি যেতে পারবেন।”
দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফের দলীপের ফাইনালে উঠেছে পূর্বাঞ্চল। যা মহম্মদ শামির শততম ম্যাচ। চিপকে এই ম্যাচের আগে সিএবি তাঁকে একাধিক উপহার দেবে। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সই করা একটি বল দেওয়া হবে। তার সঙ্গে থাকবে একটি একশো লেখা জার্সি। একটি এক কেজি ওজনের বিশেষ রুপোর স্মারকও থাকবে শামির জন্য। সিএবি কোষাধ্যজ্ঞ সঞ্জয় দাস এই উপহারগুলি চেন্নাইয়ে নিয়ে যাবেন বলে জানা গিয়েছে।




