১৩৭ জন যাত্রীকে নিয়ে ফুকেত থেকে দিল্লির পথে উড়ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। মাঝআকাশে আচমকাই একসঙ্গে বিকল হয়ে যায় বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেম। আর সেই সংকটময় পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্বে থাকা এক পাইলটই বিমানে ওঠার আগে গাঁজা ও ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন! ফুকেত-দিল্লি বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করেছে এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো।
ঘটনাটি ঘটে গত ৪ আগস্ট। ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। প্রবল ঝাঁকুনিতে বিমানের ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর ছিল। ঘটনার পর তদন্ত শুরু হলে সামনে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রাথমিক পরীক্ষায় এক পাইলটের মাদক পরীক্ষার রিপোর্টে সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার ফলও আসে ইতিবাচক। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই পাইলট স্বীকার করেন, বিমানে ওঠার আগে তিনি শুধু গাঁজাই নয়, ঘুমের ওষুধও খেয়েছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্টে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শুধু পাইলটের নেশাগ্রস্ত অবস্থাই নয়, দুর্ঘটনার সময়ে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটিও ছিল অত্যন্ত গুরুতর। ব্ল্যাক বক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমে গ্রিন হাইড্রোলিক ব্যবস্থার চাপ কমে যায়। এরপর ব্লু এবং ইয়েলো ব্যবস্থাতেও একই সমস্যা দেখা দেয়।
এর ফলে বিমানের নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। ডানার কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিমানটি আচমকা নিচের দিকে নামতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ড ধরে চলা সেই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত হাইড্রোলিক ব্যবস্থাগুলি ফের স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়।
তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পাইলটের ভূমিকার উপরই মূলত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, একসঙ্গে তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কীভাবে বিকল হল এবং বিমানের যান্ত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না। মাঝআকাশে এমন গুরুতর যান্ত্রিক বিপর্যয়ের মুখে পড়লে যাত্রীদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত—এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।




