• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 3 September, 2026

আবার ইডির অভিযান কলকাতা-হাওড়ায়, ২৯০ কোটি টাকা ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় তদন্ত

বরং বহু ফোন নম্বরে তাদের কাউকে পাওয়াও যাচ্ছে না। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে এই নিয়ে ইডির কাছে অভিযোগ জানানো হয়

আবার ইডির অভিযান কলকাতা-হাওড়ায়, ২৯০ কোটি টাকা ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় তদন্ত

Enforcement Directorate Raid Photo-SNS

একদিন আগেই টোল প্লাজার টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তল্লাশি অভিযানে নেমেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কলকাতার ব্যবসায়ীর বাড়িতেও চলে তল্লাশি। এবার বৃহস্পতিবার আবার ইডির অফিসাররা কলকাতা এবং হাওড়ায় তল্লাশি অভিযানে নেমেছেন। তবে এবারের ইস্যু ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার তদন্ত। ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি এবং আর্থিক তছরুপ মামলার তদন্তে নেমে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরের অন্তত ১১টি নানা স্থানে একযোগে তল্লাশি চালান ইডির অফিসাররা।

ইডি সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডে একটি ৬৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ছিল। আর সেই প্রকল্প দেখিয়ে একটি বেসরকারি সংস্থা ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট প্রকল্পে ওই অর্থ ব্যবহার হয়নি বলে অভিযোগ। পরে একাধিক ভুয়ো এবং সহযোগী সংস্থার অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা ঘুরিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা দায়ের করে তদন্তে শুরু করেছে ইডি। তাই এদিন তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

ইডি তদন্তে নেমে তথ্য পেয়েছে, খুব পরিকল্পনা করেই এই টাকা সরিয়ে ফেলা হয়। আর ব্যাঙ্ককে টাকা শোধ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং বহু ফোন নম্বরে তাদের কাউকে পাওয়াও যাচ্ছে না। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে এই নিয়ে ইডির কাছে অভিযোগ জানানো হয়। তার জেরেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এই জালিয়াতি এবং প্রতারণা কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্ত কোহিনূর পাওয়ার সংস্থার একাধিক ডিরেক্টর এবং শীর্ষ আধিকারিকদের বাসভবন ও কার্যালয়ে হানা দেওয়া হয়। হাওড়ার বালির কেপি কুমার স্ট্রিটের একটি বহুতল আবাসন ঘিরে ফেলে ইডির টিম। বহুতলটির তিনতলায় বসবাসকারী আগরওয়াল পরিবারের ফ্ল্যাটে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি ও নথিপত্র খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা।

ইডি সূত্রে খবর, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, জালিয়াতির এই আর্থিক লেনদেনের জাল কাটাতে ঝাড়খণ্ড-সহ আরও কয়েকটি পার্শ্ববর্তী রাজ্যেও সমান্তরালভাবে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নথি ও বয়ান খতিয়ে দেখে পরবর্তী কড়া পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। প্রশান্ত এবং অজয় বোথরার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এঁরা এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।