• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 2 September, 2026

সিপিএম নেতা লাহেক আলি অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন, সঙ্গে রয়েছে একাধিক শর্ত

এরপর তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য আসে। যার ভিত্তিতে সিপিএম নেতা লাহেক আলির নাম জড়িয়ে পড়ে

সিপিএম নেতা লাহেক আলি অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন, সঙ্গে রয়েছে একাধিক শর্ত

CPI(M) Leader Lahek Ali Photo-SNS

অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন বারুইপুরের সিপিএম নেতা লাহেক আলি। এই নেতাকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। লাহেক আলির মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ছেলে হিসাবে তাঁর পাশে থাকা উচিত। এই পরিস্থিতিতে লাহেক আলির জামিন মঞ্জুর করার আবেদন জানান তাঁর আইনজীবী। বুধবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ শর্তসাপেক্ষে লাহেক আলির আবেদন মঞ্জুর করেন। কলকাতা হাইকোর্টের শর্ত অনুযায়ী, লাহেক আলি এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। এমনকী বারুইপুর থানা তাঁকে ডাকলে জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হতে হবে। বারুইপুরের অন্তর্গত সূর্যপুর গণধর্ষণ কাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার জেরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল লাহেক আলিকে।

কদিন আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েন সিপিএম নেতা লাহেক আলির মা। নরেন্দ্রপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভেন্টিলেশনে তাঁকে ভর্তি করতে হয়েছে। এই অবস্থায় লাহেক আলির মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা। গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বারুইপুর থানা এলাকার এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ ওঠে। তারই প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামেন এলাকার মানুষজন। তখন ওই আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন সিপিএমের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য লাহেক আলি। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পথ অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে তখন অভিযোগ করা হয়েছিল, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একদল মানুষ তীব্র হিংসাত্মক কাণ্ড করেছে। কয়েকটি পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপরও হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পরই বারুইপুর থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একাধিক মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।

এরপর তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য আসে। যার ভিত্তিতে সিপিএম নেতা লাহেক আলির নাম জড়িয়ে পড়ে। আর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতা এক অটোচালককে সন্দেহের বশে পিটিয়ে খুন করে ফেলে। এমনকী স্থানীয় একটি পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর পর্যন্ত চালানো হয়। পুলিশকর্মীদের মারধর করে পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। সেই অশান্তিতে নাম জড়িয়ে যায় লাহেক আলির। সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তাছাড়া সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী তখন অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ কোনওরকম তথ্য বা সিসিটিভি ফুটেজ সঠিকভাবে যাচাই না করেই তাড়াহুড়ো করে এই পদক্ষেপ করেছে। গত ১২ জুলাই লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৫০ দিন জেলে আছেন লাহেক আলি। তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ভেন্টিলেশন সাপোর্টে আছেন। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। অন্তর্বর্তী জামিন পাওয়ার পর এই মামলা কোন দিকে গড়ায় এখন সেটাই দেখার।