• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 1 September, 2026

‘তোমাকে কষ্ট পেতে, হারতে, আবার উঠে দাঁড়াতে দেখেছি’— মেসির অবসরে আবেগঘন বার্তা স্ত্রী আন্তোনেলার

বিশ্বকাপের পর আর কিছু পাওয়ার বাকি ছিল না তাঁর। পরে ২০২৪ সালে আরও এক বার কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা। দেশের হয়ে মেসির শেষ পরিসংখ্যানও তাই ঈর্ষণীয়— ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল।

‘তোমাকে কষ্ট পেতে, হারতে, আবার উঠে দাঁড়াতে দেখেছি’— মেসির অবসরে আবেগঘন বার্তা স্ত্রী আন্তোনেলার

Photo: X

এত বছরের অপেক্ষা, অসংখ্য হতাশা, কান্না, ব্যর্থতা— সব শেষে স্বপ্নপূরণ। লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিযানকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। তাই আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ঘোষণার পর আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না তিনিও। সমাজমাধ্যমে স্বামীর দীর্ঘ ফুটবলজীবনের নানা ওঠাপড়ার কথা তুলে ধরে আন্তোনেলার বার্তা, মেসির লড়াই শুধু ট্রফি জেতার কাহিনী নয়, বার বার ভেঙে পড়ে আবার উঠে দাঁড়ানোরও কাহিনী।

ইনস্টাগ্রামে মেসিকে উদ্দেশ করে আন্তোনেলা লিখেছেন, ‘তোমাকে এ ভাবে এই অধ্যায় শেষ করতে দেখে আমি কতটা গর্বিত, তা বলে বোঝাতে পারব না। কতগুলো বছর, কতগুলো মুহূর্ত, কত আনন্দ, আবার কত কঠিন সময়ও এসেছে। তোমাকে কষ্ট পেতে, হেরে যেতে এবং আবার উঠে দাঁড়াতেও দেখেছি। যখন কিছুই ঠিক মতো হয়নি, তখনও তোমাকে এগিয়ে যেতে এবং বার বার চেষ্টা করতে দেখেছি’।

মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ব্যর্থতার সংখ্যাও কম নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল, ২০১৫ এবং ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে পর পর এসেছিল হতাশা। এমনকী, ২০১৬-য় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের কথাও ঘোষণা করে দিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছিলেন।

আন্তোনেলা লিখেছেন, ‘এত বছর পরে তোমার স্বপ্নগুলো পূরণ হতে দেখা এবং আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলির মধ্যে দিয়ে তোমার সঙ্গে পথ চলতে পারা আমার এক বিরাট সৌভাগ্য’।

আর মেসির এই লড়াইয়ের সবচেয়ে কাছের সাক্ষী তাঁর সন্তানরা। বাবার সাফল্যের পাশাপাশি তাঁরা দেখেছেন ব্যর্থতা, হতাশা এবং নতুন করে শুরু করার জেদ। সেই জায়গাটাই আন্তোনেলার কাছে সবচেয়ে আবেগের।

তাঁর কথায়, ‘এই পুরো কাহিনীর একটা বিষয় আমাকে সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ করে। আমাদের সন্তানরা খুব কাছ থেকে সব কিছু দেখতে দেখতে বড় হয়েছে। তারা দেখেছে, তাদের বাবা নিজের লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য কী ভাবে লড়াই করেছে, কখনও হাল ছাড়েনি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছে। আর শেষ পর্যন্ত তারা নিজের চোখে দেখেছে, তুমি সব কিছু অর্জন করেছ এবং বিশ্বকাপ হাতে তুলেছ’।

২০২২-এ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্তটাই ছিল মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সেই বিশ্বকাপের পর আর কিছু পাওয়ার বাকি ছিল না তাঁর। পরে ২০২৪ সালে আরও এক বার কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা। দেশের হয়ে মেসির শেষ পরিসংখ্যানও তাই ঈর্ষণীয়— ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল।

মেসির সন্তানরা হয়তো এখনই বাবার এই জীবনের মাহাত্ম্য পুরোপুরি বুঝতে পারবে না। কিন্তু তাঁদের চোখে মেসি প্রথমে বাবা। আন্তোনেলার শেষ কথাগুলিতে সেই আবেগই সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে।

তিনি লিখেছেন, ‘হয়তো এক দিন তারা সত্যিই বুঝতে পারবে, তোমার এই কাহিনী কতটা অবিশ্বাস্য। কিন্তু এখন তারা শুধু তাদের বাবাকে নিয়ে গর্বিত। আর আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত— তোমার অভিযান নিয়ে, তুমি যে সমস্ত বাধা পেরিয়ে এসেছ, তা নিয়ে এবং সবচেয়ে বেশি গর্বিত সেই মানুষটির জন্য, যে এই প্রতিটি মুহূর্তের পিছনে ছিল। তোমার পাশে থেকে এই সব কিছুর সাক্ষী হতে পারা আমার কী অসাধারণ সৌভাগ্য! আমরা তোমাকে সীমাহীন ভালবাসি’।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির অধ্যায় শেষ। কিন্তু তাঁর লড়াই, ব্যর্থতা পেরিয়ে ফিরে আসা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের গল্প— থেকে গেল আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।