• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 31 August, 2026

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এবার ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ভবনে মঙ্গলবার বৈঠক

বৈঠকে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের কমিশনার ছাড়াও রাজ্যের ২১টি পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা। থাকবেন পুর ও নগরোন্নয়ন, পরিবহন এবং সেচ দপ্তরের সচিবেরা। রেলের আধিকারিকদেরও বৈঠকে ডাকা হয়েছে

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এবার ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ভবনে মঙ্গলবার বৈঠক

Image: IANS

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবার সরাসরি রাশ নিজের হাতে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় স্বাস্থ্য ভবনে ডেঙ্গু নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক ডেকেছেন তিনি। বৈঠকে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের কমিশনার ছাড়াও রাজ্যের ২১টি পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা। থাকবেন পুর ও নগরোন্নয়ন, পরিবহন এবং সেচ দপ্তরের সচিবেরা। রেলের আধিকারিকদেরও বৈঠকে ডাকা হয়েছে।

রাজ্যে পালাবদলের পরে ডেঙ্গু নিয়ে এই প্রথম এত বড় পরিসরে বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। পূর্বতন সরকারের আমলে সাধারণত নবান্ন থেকেই ডেঙ্গু পরিস্থিতির পর্যালোচনা বৈঠক হতো। এবার  সদর দপ্তর স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বৈঠক করার সিদ্ধান্তকে তাই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

আরও পড়ুন: AI ক্যামেরাকে ফাঁকি দিতে বিশেষ শার্ট! তৈরি করেছেন ডিজাইনার সাইমন ওয়েকার্ট

মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বৈঠকের আগে মঙ্গলবারই জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। সেই বৈঠকে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি, আক্রান্তের সংখ্যা, মশার লার্ভা নিধন এবং নজরদারি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রায় সব ক’টি পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ায় পুর পরিষেবার একটা বড় অংশ কার্যত ধাক্কা খেয়েছে।

মশার লার্ভা নিধন এবং ডেঙ্গি প্রতিরোধের কাজে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ বর্তমানে আয়ুষ্মান সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং তদারকির কাজেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকেরাও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কাজে প্রয়োজনীয় তদারকি করতে পারছেন না— এমন অভিযোগও উঠছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সরাসরি হস্তক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ভবনের হিসাব অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত ডেঙ্গিতে রাজ্যে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু পজিটিভ রোগীর মৃত্যুকেও হিসাবের মধ্যে ধরলে মৃতের সংখ্যা ১০। ১৯শে আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৪,০৩৫। আক্রান্তের হার ০.৭ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে, অর্থাৎ বছরের প্রথম ৩৩ সপ্তাহে, আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬,৪৮৮। আক্রান্তের হার ছিল ১ শতাংশ।

আরও পড়ুন: শিলং উপনির্বাচনের আগে দলবদল! বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন UDP-র ৯ বিধায়ক

পরিসংখ্যানে এ বছর আক্রান্তের হার গত বছরের তুলনায় কম হলেও স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, ডেঙ্গু পরীক্ষা গত বছরের তুলনায় কম হওয়ায় শুধুমাত্র আক্রান্তের হার দিয়ে পরিস্থিতির বিচার করা ঠিক হবে না। ২০২৫ সালে ডেঙ্গিতে রাজ্যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, এবছর রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় আচমকা ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। জলপাইগুড়ির মাল ও মাটিয়ালি, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ও রঘুনাথগঞ্জ-২, পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ও পূর্বস্থলী-১, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়-১ ও ভাঙড়-২ এবং নদিয়ার তেহট্ট-১ ও চাকদহকে বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত মঙ্গলবারই ডেঙ্গু নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই ফের বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে এ বার বৈঠকে থাকছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে তাঁর এই বৈঠক থেকেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পুরসভা, স্বাস্থ্য দপ্তর, সেচ, পরিবহণ এবং রেলের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দেখুন: আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে নন্দীগ্রামে বড় দাবি শুভেন্দুর