মঙ্গলবার কলকাতা ফুটবল লিগের যে ম্যাচে পুরো পয়েন্ট পেলে তারা সুপার সিক্সে জায়গা পাকা করে নেবে, সেই ম্যাচে তাদের মাঠে নামতেই হবে না! এবং মাঠে না নামলেও তারা পুরো তিন পয়েন্টই ঘরে তুলবে এবং সুপার সিক্সেও উঠে যাবে!
মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে খবরটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি। তা হলে খুলেই বলা যাক। মঙ্গলবারের ম্যাচে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ বেহালা এসএস ক্লাব। যাদের দশটি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে এবং শেষ ম্যাচটি তাদের খেলার কথা মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। দশ ম্যাচের পর তারা ১২ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে সাত নম্বরে।
কিন্তু শোনা যাচ্ছে, তারা সম্প্রতি লিগের আয়োজক আইএফএ-কে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, তারা শেষ ম্যাচে দল মাঠে নামাতে পারবে না। তাদের এমন সিদ্ধান্তে ময়দানে স্বাভাবিক ভাবেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন, তা হলে কি মোহনবাগানকে তিন পয়েন্ট ‘পাইয়ে’ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বেহালা এসএস?
এমনকী, এই প্রশ্নও উঠছে যে মোহনবাগান তাদের ম্যাচে না নামার ‘অনুরোধ’ করাতেই কি বেহালা এসএস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে? এই বিষয়ে দুই ক্লাবের কেউই মুখ খুলতে রাজি নয়। কী কারণে বেহালা এসএস মঙ্গলবারের এই ম্যাচ খেলতে রাজি নয়, তাও নাকি চিঠিতে জানায়নি।
অনেক সময় তথাকথিত ছোট ক্লাবগুলি আর্থিক সমস্যার জন্য গুরুত্বহীন ম্যাচে দল নামাতে রাজি হয় না। বেহালার কাছে মঙ্গলবারের এই ম্যাচ গুরুত্বহীন। কারণ, এই ম্যাচে জিতলেও তাদের আর সুপার সিক্সে ওঠার কোনো সম্ভাবনা নেই। সেই কারণেই ক্লাবের খরচ বাঁচানোর জন্য হয়তো তারা শেষ ম্যাচটি খেলতে চায় না।
কিন্তু তেমন কোনো কারণের কথা তারা আইএফএ-কে জানায়নি। যে কারণে জল্পনা আরো বেড়েছে। এমনকী এই অভিযোগও সামনে এসেছে যে, মোহনবাগানের এক কর্মকর্তা আবার বেহালা এসএস-এরও ঘনিষ্ঠ। এবং মঙ্গলবারের ম্যাচে যেহেতু মোহনবাগানকে তিন পয়েন্ট পেতেই হবে, তাই তাঁর প্রভাবেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেহালা এসএস। তবে পুরোটাই অভিযোগ এবং জল্পনা। আসল কারণটা বেহালার ক্লাবের পক্ষ থেকে চিঠিতে জানিয়ে দেওয়া হলে হয়তো এত জল্পনা হত না, এত অভিযোগও উঠত না।
তবে মোদ্দা ব্যাপারটা হল, মঙ্গলবার মোহনবাগান ওয়াকওভার পেয়ে পুরো তিন পয়েন্ট পেতে পারে এবং সুপার সিক্সে জায়গা পাকা করে নিতে পারে। কলকাতা ফুটবল লিগের গ্রুপ ‘এ’ থেকে ইতিমধ্যেই সুপার সিক্সে জায়গা করে নিয়েছে ভবানীপুর ক্লাব ও ইস্টবেঙ্গল এফসি। ভবানীপুর ১১ ম্যাচ খেলে ২৭ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের ৯ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট। মোহনবাগানের ৯ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট। আবার চতুর্থ স্থানে থাকা ইউনাইটেড স্পোর্টসের দশ ম্যাচে সংগ্রহ ১৬। আজ তারা সুরুচি সঙ্ঘকে হারালে তিন পয়েন্ট পেয়ে ১৯ পয়েন্টে চলে যাবে এবং মোহনবাগানকে ছুঁয়ে ফেলবে। এই অবস্থায় মঙ্গলবারের ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট পাওয়াটা খুবই জরুরি। তাই বেহালা এসএস এই ম্যাচে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদেরই সবচেয়ে বেশি ‘লাভ’ হয়েছে।
অর্থাৎ, কলকাতা ফুটবল লিগের ডার্বির আগেই দুই প্রধানের সুপার সিক্সে জায়গা পাকা হয়ে গিয়েছে। ফলে কলকাতা ডার্বি দুই দলের কাছেই গুরুত্বহীন হয়ে গেল। সুপার সিক্সে ওঠার দিক থেকে তারা নিশ্চিন্ত হয়েই মাঠে নামবে।
কিন্তু কবে হবে এই ডার্বি, সেই সিদ্ধান্ত এখনও নিতে পারেনি আইএফএ। শোনা যাচ্ছে ৬ সেপ্টম্বর বারাসাত স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এখনও সরকারি ভাবে কোনো কিছু ঘোষণা করা হয়নি।




